মোঃ বাবুল হোসেন, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) : জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে গ্রামীণ সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিঃ নামের কথিক বেসরকারী এনজিও কর্মকর্তা চন্দ্রলাল রবিদাস গ্রাহকের প্রায় ৫ কোটির টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে ওই এনজিও’র নিকট সঞ্চয় রাখা কয়েক শত গ্রাহক। তবে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ বলছে, বিষটির তদন্ত চলছে, তদন্ত রির্পোট সাপেক্ষে আইনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিঃ নামের এনজিওটি ২০১৩ সালে উপজেলা সমবায় কর্তৃক নিবন্ধন (যার নং ৫৪৯/১৩) নিয়ে উপজেলার কৃষি ব্যাংক মোড় সংলগ্ন সুহেল বাবুর ভবনের দ্বিতীয় তলায় অফিস ভাড়া নিয়ে এর কার্যক্রম শুরু করে।
এনজিওটিতে ৪ জন আদায়কারী নিয়োগ করে এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে ডিপিএসে ১৫% এবং এফডিআরে দ্বিগুন অর্থ প্রদানের লোভনীয় লভ্যাংশের অফার দিয়ে গ্রাহক সংগ্রহ করে। এদের সরল কথায় বিশ্বাস করে এলাকার অনেক মানুষ নিজের কষ্টার্জিত টাকা সেখানে লাভের আশায় ডিপিএস, এফডিআর ও সঞ্চয় হিসাবে রাখে।
এরই মধ্যে কিছু গ্রাহক তাদের সঞ্চয় ফেরত চাইলে এনজিওটির কর্মকর্তা চন্দ্রলাল রবিদাস বিভিন্ন ধরনের তালবাহনা করতে থাকে। এমতবস্থায় গত ১৫ই নভেম্বর নাহিদ নামের সদস্য অফিসে সঞ্চয়ের টাকা নিতে গেলে অফিসের দরজা তালাবন্ধ দেখতে পায়। পরে বিষয়টি অন্যান্য গ্রাহকরা জানতে পারলে অফিসে এসে তালাবদ্ধ দেখতে পান।
উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের গ্রাহক নাফিজুর রহমান নাহিদ বলেন, ‘আমার মায়ের পেশনের ১২লক্ষ টাকা সমিতিটিতে এফডিআর হিসাবে জমা রাখি। মাসে প্রতি লাখে ১৫০০ টাকা করে লভ্যাংশ দেওয়ার কথা থাকলেও একটি টাকাও আমাকে দেয়নি। এখন দেখছি সমিতি উধাও। আমার মা এই চিন্তায় শয্যাশায়ী। এখন নেওয়া খাওয়া বন্ধ করেছে।’
উপজেলার গনেশপুর গ্রামের আদিবাসী সাঙ্গাল উড়াও বলেন, ‘আমি জমি বিক্রয় করে চার লক্ষ টাকা রাখি। অফিসে এসে দেখছি তালা মারা। আমি এখন কি করে খাব? ছেলে মেয়েকে কিভাবে লেখাপড়া করাবো?’
মাঠকর্মী জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘আমরা শুধু মাঠ পর্যায়ে সঞ্চয় ও ঋণ আদায় করতাম। আর এফডিআরের সঞ্চয় ম্যানেজার চন্দ্রলাল বাবু নিজে আদায় করতেন। আমাদের ৫/৬মাস বেতনও দেননি। আমরা মানবতের জীবন যাপন করছি।’
পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সমাজ কর্মী এসকে হক বলেন, গ্রামীণ সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিঃ সমিতির নামে শত শত গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। নিবন্ধন প্রদানকারী সমবায় অফিস এর দায় এড়াতে পারেন না। আশা করি সমবায় অফিস এই সমিতির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা লুৎফুল কবীর সিদ্দিকীর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিঃ নামের একটি সমিতি বন্ধের অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে আমার উর্ধত্তন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। তদন্ত চলছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে আইনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
