মোহাম্মদ আলম : আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ঘোষণায় তৃণমুল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে প্রাণ ফিরেছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনের পূর্বেই উপজেলা-জেলা-মহানগরসহ তৃণমূলে সাংগঠনিক কমিটি পুর্নগঠন ও গোছানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
রাজধানীর উত্তরে রাজনৈতিকভাবে অতিব গুরুত্বপূর্ণ মহানগর গাজীপুর। প্রায় ৩০ লাখ শ্রমিক এবং বসতি মিলে ৫০ লাখ জন অধ্যুষিত গাজীপুরের রাজনীতি বরাবরই আওয়ামী লীগের শক্তঘাটি। শুধু তাই নয় একদিকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালি অপরদিকে কেন্দ্রে জনসমর্থনের শোডাউনেও গাজীপুর থেকে বিপুল জনশক্তি থাকে। বঙ্গতাজ শহিদ তাজ উদ্দিন আহমেদ থেকে শুরু করে শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার, আ ক ম মোজাম্মেল হক, কাজী মোজাম্মেল হক, পরবর্তিতে মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল, আজমত উল্লাহ খান, মতিউর রহমান মতি, কামরুল আহসান সরকার রাসেলের নেতৃত্বে রাজনীতির এই ধারা বহমান। মহানগরের বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলমও এ ক্ষেত্রে ভুমিকা রেখেছেন বৈকি। তবে বির্তকিত মন্তব্যে তিনি(জাহাঙ্গীর আলম) প্রাথমিক সদস্যপদ হাড়িয়েছেন।
গাজীপুর মহানগরে আওয়ামী লীগ ও অংগ সংগঠন নতুন নেতৃত্বের জন্য মুখিয়ে রয়েছে। ১৩ জানুয়ারী ২০১৩ গাজীপুর মহানগরের পথ চলা শুরু। ইতিমধ্যেই ৯ বছর পেরিয়েছে। এই সময়ে আওয়ামী লীগ ও অংগসংগঠন সাংগঠনিকভাবে অগোছালো বললে ভুল হবে না। মহানগর আওয়ামী লীগ কমিটি হয়েছে একবার। সেই কমিটির মেয়াদও পেরিয়েছে বছর হলো। মহানগর আওয়ামী লীগের ৮ থানা কমিটি একবারের জন্যও হয়নি। মহানগরের ৫৭ ওয়ার্ড কমিটি একবার হয়েছে। তবে অর্ধেক সংখ্যক ওয়ার্ডে আহ্বায়ক কমিটি। ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে আন্দোলন বির্তকে কেন্দ্র পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত তৃণমূল নেতৃবৃন্দ তাদের কাঙ্খিত কমিটি পায়নি।
মহানগর হবার পর থেকে যুবলীগের পূর্নাঙ্গ কমিটিই হয়নি। আহ্বায়কেই চলছে। মহানগরের ৮টি থানায় যুবলীগের কোন পর্যায়ের কমিটিই হয়নি। তবে মহানগরের ৫৭ ওয়ার্ডে ১৭টিতে যুবলীগের কমিটি হয়েছে। অন্যসব ওয়ার্ড একই চিত্র। যুবলীগ করার বয়স সীমা হচ্ছে ৫৫ বছর। মহানগর, থানা এবং ওয়ার্ডে যুবলীগের পদ প্রত্যাসী ডজন ডজন নেতৃবৃন্দ সেই সীমা পেরিয়ে বুড়িয়ে গেছেন।
ছাত্রলীগের কমিটিও একবারের জন্য হয়েছিলো। মহানগরে ছাত্রলীগ কমিটি নেই আধা যুগ। কমিটির প্রতিক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে অনেকের ছাত্রত্ব নেই। আবার বিবাহের বয়স পেরিয়েছে। তবে লুকোচুরির মাধ্যমে বিবাহ করার পাল্টাপাল্টি অভিযোগও আছে। মহানগরের ৮ থানা ও ৫৭ ওয়ার্ডে ছাত্রলীগ কমিটির অবস্থাও তাই।
স্বেচ্ছা সেবক লীগ সেদিক থেকে অগ্রগামী বলা চলে। দ্বিতীয়বারের মত মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগ কমিটি হয়েছে। তবে মহানগরের থানা ও ওয়ার্ডে স্বেচ্ছাসেবকলীগের পরিস্থিতিও একই রকম। কমিটি হয় হয় করে হচ্ছে না। এর মাঝে জাহাঙ্গীর ঘনিষ্টতায় পদ হারাচ্ছেন বলে শুনা যাচ্ছে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনিরুজ্জাামান মনির।
গাজীপুর মহানগরে মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, কৃষক লীগ, তাঁতী লীগ প্রতিটি অংগ সংগঠনে নিয়মিত কমিটি গঠনের চর্চা নেই। মহিলা আওয়ামী লীগের কমিটির শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়ে বির্তক এখন সবার মুখে মুখে। বাস্তবতা হচ্ছে যে যেখানে পদ অলংকৃত করেন সেখানে গেড়ে বসেন। অপরদিকে দীর্ঘদিন মাঠে ময়দানে রাজনীতি করে অনেকেই কোন প্রকার পদ পদবি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি কিনতু প্রতি ৩ বছরে সম্মেলন করছে। ২০১৯ সালে ২১ তম সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সভাপতি নির্বাচিত হন। কেন্দ্রীয় কমিটির পদাঙ্ক অনুসরন করে তৃণমূলে কমিটি গুলো নবায়ন হচ্ছে না। গাজীপুর মহানগর প্রতিষ্ঠার ৯ বছরে আওয়ামী লীগ ও অংগ সংগঠনের কমিটি জট সেই কথাই বলে। তৃণমূলে একটি গোষ্ঠি জগদ্দল পাথরের মত আকড়ে রয়েছেন।
সাংগঠনিকভাবে মহানগর গঠনের ৯ বছরে সব সংসগঠনের তৃতীয়তম কমিটি চলমান থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে সেটা হয়নি। এতে আওয়ামী লীগেরই ক্ষতি। কারন নেতৃত্ব নবায়নের মাধ্যমে নতুন নেতা সৃষ্টি হয়নি। হ্যাঁ যোগ্যতা এবং চাহিদার নিরিখে একজন একাধিকবার কমিটিতে আসতেই পারেন। তবে তা অবশ্যই সাংগঠনিক নিয়মে কেন্দ্রের মত সম্মেলনের মাধ্যমে হওয়া উচিত ছিলো। বাস্তবে তা দেখা যায়নি। তৃণমূলে এই পরিস্থিতির দিকে কেন্দ্রের আরো নজরদারি প্রয়োজন।
এতক্ষন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনে কমিটির সালতামামি করা হলো। তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ঘোষনায় নেতাকর্মীদের মাঝে উদ্দিপনা দেখা গেছে। দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার হয়ত সকল পর্যায়ের কমিটি পূর্নগঠন, নবায়ন বা গঠন হবে। তৃণমূল নেতৃবৃন্দ এমনটাই প্রত্যাসা করে। মন্তব্য প্রতিবেদন।
লেখক : সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।
