মোহাম্মদ আলম : ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। গাজীপুর মহানগর আওয়ামী যুবলীগের ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচীতে চাঙ্গা মহানগরের আওয়ামী রাজনীতি। মহানগরের ৮ থানা ও ৫৭ ওয়ার্ডে কমিটি গঠনের প্রকৃয়া চলছে। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কর্মীসভায় মহানগর যুবলীগ আহ্বায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দ এক মঞ্চে হাজির হচ্ছেন। একইভাবে জাতীয় এবং দলীয় কর্মসূচীতেও মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদের এক ছাতার নীচে পেয়ে নেতাকর্মীদের মাঝেও নতুন উদ্দিপনা। ঐকবদ্ধ যুবলীগের চাঙ্গা রাজনীতিতে গাজীপুর মহানগরের ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, তাতি লীগসহ অন্যান্য অঙ্গ সংগঠন থেকে যুবক শ্রেনী যুবলীগে প্রবেশের প্রতিযোগীতায় নেমেছে। থানা ও ওয়ার্ডে কমিটির জন্য সংগৃহীত সিভির সংখ্যা সে কথাই বলে। এক একটি পদের বিপরীতে ডজন ডজন পদ প্রত্যাসীর ভির।
কথায় আছে ‘সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ’। দেশব্যাপী বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ইতিবাচক কর্মাকন্ডে তারই যেন প্রতিফলন। কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল হোসেন খান নিখিল দায়িত্বে আসার পর থেকে সারাদেশে যুবলীগের কর্মকান্ডে মুলত আওয়ামী রাজনীতির মাঠে ইতিবাচক বাতাস বইছে। আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিন ক্ষমতার সুবাদে মূল দল নেতৃবৃন্দের মাঝে এক প্রকার অসুস্থ প্রতিযোগীতা। দলীয় পদ-পদবী, ইউনিয়ন-উপজেলা-সংসদ এসব স্থানে জনপ্রতিনিধিত্ব মনোনয়ন বা সরকারি ঠিকাদারি নিয়ে দলের ভিতর আভ্যন্তরীন কোন্দল স্পষ্ট। বিশেষভাবে চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির অনুপস্থিতিতে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগের আভ্যন্তরিন কোন্দল আরো বেশী মাথা চাড়া দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম আওয়ামী যুবলীগ। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের স্পস্ট বার্তা ছিলো ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। পদ-পদবীর জন্য প্রতিযোগীতা থাকবে তবে প্রতিহিংসা নয়। জনহিতকর কাজেও ঐকবদ্ধ্যভাবে মানুষের পাশে দাড়ানোর নজির স্থাপন করেছে যুবলীগ।
সারাদেশের ন্যায় গাজীপুর মহানগর যুবলীগেও ঐক্যের সুবাতাস বইতে শুরু করে। অতিতে মহানগর যুবলীগের আভ্যন্তরিন দ্বিধাবিভক্তির কারনে পূর্নাঙ্গ কমিটি যেমন হয়নি। একইভাবে এযাবৎ থানা ওয়ার্ড কমিটিও নেই। তবে মহানগর যুবলীগ আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেল বছরব্যাপি নানা কর্মসূচীর মাধ্যমে নেতৃবন্দকে চাঙ্গা রাখার কাজটি ঠিকই চালিয়ে গেছেন। পাশাপাশি যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ সাইফুল ইসলাম ও সুমন আহমেদ শান্ত বাবু আলাদা আলাদা কর্মসূচির মাধ্যমে একটি নিজস্ব বলয় সৃষ্টি করেছেন। কেন্দ্রে বর্তমান চেয়ারম্যান এবং সাধারণ সম্পাদক আসার পর পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। প্রথমেই সারাদেশের ন্যায় গাজীপুরে কমিটি গঠন প্রকৃয়া স্থগিত করা হয়েছে। পরে মহানগর নেতৃবৃন্দকে নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির মিটিংএ ঐক্যবদ্ধ্য হবার কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়। গাজীপুর মহানগর যুবলীগ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের মাঝে ঐক্যের বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছেন বৈকি।
গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সদ্য বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক ও সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিষয় সবাই অবগত। তার বিষয় নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ কিছুটা বিব্রত। তবে একথা অনস্বীকার্য জাহাঙ্গীর আলম নানামুখি কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের ব্যতিব্যস্ত রাখতেন। জাহাঙ্গীর আলম আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কার হবার পর গাজীপুর মহানগরে সেই স্থানটি নিয়েছে যুবলীগ। যুগ্ম -আহবায়ক মোঃ সাইফুল ইসলাম মেয়র প্রার্থী হিসাবে সরাসরি নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করে বিভিন্ন কর্মসূচী দিচ্ছেন। সাইফুল ইসলামের গৃহ নির্মাণ কর্মসূচি বেশ জনপ্রিয়। তবে যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেল গণমুখি বিভিন্ন কর্মসূচিতে গাজীপুর মহানগরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে চাঙ্গা রাখছেন। করোনাকালে কামরুল আহসানের জনহিতকর কর্মসূচিগুলো জনমনে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে চলছে ভাঙা গড়ার খেলা। একদিকে মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বহিস্কৃত। অপরদিকে যুবলীগ, ছাত্রলীগ কমিটি গড়ার প্রকৃয়া চলছে। সামনেই সিটি নির্বাচন। জাতীয় নির্বাচনও ঘনিয়ে এলো। রাজধানীর পাশে ভৌগলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ গাজীপুর মহানগরে রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়ে কেন্দ্রও সচেতন। মহানগর আওয়ামী যুবলীগের এই চাঙ্গাভাব ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কি প্রভাব ফেলে এটাই দেখার বিষয়!
