×

সরকার এখনই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলার কথা ভাবছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : ‘সরকার এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার কথা ভাবছে না। শিশুদের সঙ্গে তাদের অভিভাবকদেরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। সে ক্ষেত্রে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে। যদিও শিশুদের কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম কিন্তু তারা নীরব বাহক হতে পারে। বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশ। এখানে ফিজিক্যাল ডিসটেন্স মেইনটেইন করা অত্যন্ত দূরূহ কাজ।’

মঙ্গলবার রাতে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে জাতিসংঘ প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো করোনাকালীন সময়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম ও অনলাইন ক্লাস চালু করায় বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, করোনার কারণে মানসম্মত শিক্ষা অর্জন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সমস্ত প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি। ২০২১ সালে অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক ক্লাস না হওয়ায় সিলেবাস সমাপ্ত করা এখন একটা বড় চ্যালেঞ্জ। তাছাড়া কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যবহারিক ক্লাসসমূহ অনলাইনে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আমাদের শিশুরা সাইকলজিক্যাল বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছে।

তাছাড়া অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চান না। তাই সরকার এই পরিস্থিতিতে বিকল্প পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, করোনায় শিক্ষাখাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ডিজিটাল প্রযুক্তি আমাদের সহায়তা করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তারপরও আমাদের প্রায় ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী শিক্ষা কার্যক্রমের বাইরে রয়েছে। মোট শিক্ষার্থীর তুলনায় ১০ শতাংশ অনেক বড় একটি সংখ্যা। আমরা কোন একজন শিক্ষার্থীকে পেছনে রেখে আগাতে চাই না।

জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পোর নেতৃত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ টোমো হোযুমি, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) এ কে এম আফতাব হোসেন প্রামাণিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ গোলাম ফারুক প্রমুখ।