×

গাজীপুরে শিল্প কারখানায় তীব্র গ্যাস সংকট

মোহাম্মদ আলম : শিল্প অধ্যুষিত এলাকা গাজীপুর, টঙ্গী, বোর্ডবাজার, জয়দেবপুর, শফিপুর, কাশিমপুর, কোনাবাড়ি ও এর আশপাশের এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। সাধারণত জেনারেটর বা বয়লার চালানোর জন্য পোশাক কারখানাগুলোয় ১৫ পিএসআই (পাউন্ড পার স্কয়ার-প্রতি বর্গইঞ্চিতে গ্যাসের চাপের ইউনিট) চাপের গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু হঠাৎ করেই গত কয়েকদিন থেকে এ চাপ ২-৩ পিএসআইয়ে নেমে এসেছে। এ চাপের কারণে ধুঁকে ধুঁকে চলছে গ্যাসচালিত মেশিনের কারখানাগুলো। এ কারণে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে ব্যাপকভাবে।

জানতে চাইলে তিতাসের পাবলিক রিলেশন অফিসার(পিআরও) মির্জা মাহবুব হোসেন জানান, বিবিয়ানা আর জালালাবাদ গ্যাস ক্ষেত্রের সংস্কার কাজের জন্য গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। দুটি গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন বন্ধ থাকায় গ্যাসের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। শিঘ্রই সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও জানান, সারা দেশে দৈনিক চাহিদা ২২০ কোটি ঘনফুট থাকলেও তিতাস গ্যাস পায় ১৫০ থেকে ১৭০ কোটি ঘনফুট। কিন্তু গত কয়েকদিন তা নেমে এসেছে ১২০ কোটি ঘনফুটে। বিবিয়ানা ও জালালাবাদ গ্যাস ক্ষেত্র রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় ডেমরা ও ঘোরাশাল সরবরাহ লাইনে প্রভাব পরেছে। এই দুইটি সরবরাহ লাইনে তিতাস অধিভুক্ত জয়দেবপুর, কোনাবাড়ি, টঙ্গী এলাকায় গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।

গাজীপুরের কয়েকটি কারখানা থেকে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে গ্যাস কর্তৃপক্ষ একটি নোটিস দিয়েছিল। সেখানে বলা হয়, লাইনে সংস্কার কাজ করার কারণে ২৬ জুলাই থেকে ২৮ জুলাই এ দুইদিন গ্যাস সরবরাহে কিছুটা বিঘ্ন হতে পারে। কিন্তু গ্যাসের সংকট চলছেই। ফলে উৎপাদন কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
কোনাবাড়ি এলাকায় অবস্থিত সাত্তার টেক্সটাইলের উপ-ব্যবস্থাপক মোঃ সারোয়ারুল ইসলাম এবং টঙ্গী পাগাড় এলাকার তুসোকা গ্রুপের ওয়াশিং কারখানার পরিচালক মোঃ মোফাজ্জল হোসেন মিলন জানান, গত কয়েকদিন যাবৎ কারখানায় গ্যাসের চাপ কোনভাবেই ৫ পিএসআই এর উপর উঠে না। বেশিরভাগ সময় ২-৩ এর মাধ্যে থাকে। এতে কারখানায় উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে কারখানা গুলোতে পোশাকের অর্ডার বেশী। লকডাউনের ধকল কাটিয়ে উঠার চেষ্টা চলছে। এখন যদি গ্যাসের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়, তাহলে পোশাক রপ্তানিও ব্যাপকভাবে ব্যহত হবে। সময় মতো পণ্য ডেলিভারি দিতে না পারলে কোটি কোটি ডলারের রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়ে যাবে। কারখানা মালিকরা দ্রুত গ্যাস সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

বিটিএমইএ সহ-সভাপতি এবং ইশরাক টেক্সটাইল মিলস্এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ফজলুুল হক বলেন, গ্যাস সরবরাহের সংকটে অনেক কারখানা বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে। সমস্যা সমাধানের জন্য তিতাস গ্যাসের এমডি বরাবর চিঠিও দেয়া হয়েছে। তবে সমস্যার কোন সমাধান হয়নি। আগামীকাল ১৪ সেপ্টেম্বর বিটিএমইএ গ্যাস সংকট উত্তরণের বিষয়ে বিশেষ বৈঠক করবে। তারা সরকারের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি উত্থাপনের চিন্তা করচে। বলে তিনি জানান।

তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী গাজীপুর জোনের ডিজিএম মোঃ শাহাজাদা ফরাজী বলেন, গাজীপুরে চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ থাকার কারনেই গ্যাসের চাপ কম। গ্রাহকের অসুবিধার জন্য তিতাস গ্যাস আন্তরিকভাবে দুঃখিত।