পরীক্ষার ফিস নেই বলে খাতা কেড়ে নিলে,
স্কুল থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিলে।
পড়া হলনা আর ছোটবেলার স্কুলে,
চলে গেলাম বাড়ির নিকটাত্মীয় ফেলে।
যেতে চাইনি, কিন্তু লেখা ছিল ভালে,
পুরাতন বই খাতাসহ লজিংয়ে পাড়ি দিলে।
সকলের অগোচরে বাড়ি থেকে বের হলে,
সাইকেলে পথ পেরিয়ে চল্লিশ মাইল দূরে।
অজপাড়ায় যেখানে শিক্ষাদীক্ষা গৌণ,
ধান চাষ বাস করাটাই ওখানে সুখপূর্ণ।
সকালে উঠে যেতে হয় মাঠ – ঘাটে কাজে,
বাড়িওয়ালাকে কিছুই বলতে পারিনা লাজে।
শিক্ষা অর্জনের তরে ঘুরেছ দুয়ারে দুয়ারে,
করেছে সাহায্য কিন্তু দেয়নিতো ফিরিয়ে।
এভাবে কোন মতে নবম শ্রেণীতে উঠে,
বদলে গেল ভাগ্যের চাকা এক রজনীতে।
নতুন বাড়িতে শিশুদের পড়ালেখা করাতে।
তখন পড়তে পারো নিজ বই ভালো মতে।
এসএসসি পাস শুধুই পড়া এক বছরে।
এভাবেই দুঃখ কষ্টে স্কুলটা পেড়িয়ে গেলে।
দু’বছর পরে কলেজ পড়ায় পাস জুটালে,
আরো দুবছর পরে স্নাতক পাস দিলে।
লজিং লজিং করেই ছাত্র জীবনটি কাটালে,
বাড়ির আদর ভালোবাসায় বঞ্চিত হলে।
চলে গেলে ট্রেনে চড়ে মহানগর ঢাকায়,
যেখানে বেকারেরা ঘুরে ঘুরে বেড়ায়।
এমনি চলে আসলে আশির দশকে,
হঠাৎ সরকারী চাকুরী জুটে বদলিয়ে ভাগ্যকে।
