নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান সম্পূর্ণভাবে জড়িত ছিলেন। এ হত্যাকাণ্ডে জিয়াউর রহমানের সম্পৃক্ততার সপক্ষে বিভিন্ন তথ্য এবং দালিলিক প্রমাণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল এম পি।
আজ বিকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি যাদুঘর প্রাঙ্গনে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আলোচনা সভায় অন্যান্যেও মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মহিলা শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি শামুন্নাহার ভুঁইয়া এমপি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় ১৯৭৬ সাল থেকে প্রতি বছর আগস্ট মাসের ১৫ তারিখ থেকে বেজোড় তারিখে মোট ৯ দিন করে রোজা রাখছেন গাজীপুরের মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৫২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবদুল আলীম মোল্লা। প্রতি বছরের মত এবারও তিনি গত ১৫ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৯দিন রোজা রেখেছেন। আজ বিকেলে তিনি ধানমন্ডিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে তিনি শ্রদ্ধা জানান। পরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, আবদুল আলীম মোল্লা ‘আগস্ট মাসের ১৫ তারিখ হতে আমৃু আমি রোজা রাখবো এবং বঙ্গবন্ধু ও ১৫ আগস্ট শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও রোজা রাখেন। আবদুল আলীম মোল্লা একজন নিবেদিত প্রাণ আওয়ামী লীগ নেতা। । তিনি একজন ত্যাগী নেতা হিসাবে সব সময় কাজ করছেন নানা বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে। জনাব আলীম ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সময় একবার বঙ্গবন্ধুকে খুব কাছে থেকে দেখেছেন।
তিনি ৭ মার্চেও ঐতিহাসিক জনসভায় এবং ১০ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে বঙ্গবন্ধুর জনসভায় যোগদান করেছেন বলে আবদুল আলীম জানান। তিনি বলেন, আমি জাতীয় চার নেতা ৩ মার্চ জেল হত্যা দিবসে এবং ৭ মে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার ও শহীদ ময়েজ উদ্দিনের মৃত্যু বার্ষিকীর দিনেও তিনি রোজা রেখে শ্রদ্ধা জানান ও কবর জিয়ারত করে থাকেন। আবদুল আলীম মোল্লা মিলাদ মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের বলেন, আমি আজীবন রোজা রেখে শ্রদ্ধা জানিয়ে যাবো। আল্লাহ যেন তাদের শহীদি মর্যাদায় জান্নতুল ফেরদৌস দান করেন তার জন্য দোয়া করবো। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ এবং একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে তাদেও অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। জননেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আমরা যেন আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারি সবার কাছে এই দোয়া কামনা করি। জনাব আবদুল আলীম মোল্লা গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৫২ নং ওয়ার্ডের একজন সৎ.আদর্শ ও নিষ্ঠাবান আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে টঙ্গী পৌরসভারও কয়েক বার নির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসবে জনসেবায় করছেন। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আত্মস্বীকৃত খুনি কর্নেল রশিদ, হুদা পাশাসহ অনেকের বিচার হয়েছে, অনেকের রায় কার্যকর করা হয়েছে। আবার অনেকে এখনো বিদেশে পলাতক। তাদের বিচারের রায় কার্যকর করা যায়নি। আমরা বারবার দাবি করেছি তাদেরকে বিদেশ থেকে নিয়ে এসে রায় কার্যকর করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করতে। এই আত্মস্বীকৃত খুনিদের যে বিষয়টি সামনে আসেনি সেটা অবশ্যই বলতে হবে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কুশীলব কে ছিল? কুশীলব ছিল খুনি জিয়াউর রহমান। এখন সময় এসেছে বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যের খলনায়ক জিয়াসহ সকল কুশীলবদের মরণোত্তর বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন,বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল কুশীলব জিয়াউর রহমান নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে অথচ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে একে একে সমস্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করেছেন। উনি এদেশের স্বাধীনতা বিরোধীদের পুনর্বাসন করেছেন। সাড়ে ১২ হাজার মানবতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী ও দালালদের মুক্ত করে দিয়েছিলেন। রাজাকার প্রধান গোলাম আযম যার নেতৃত্বে একাত্তরে গণহত্যা হয়েছিল সেই গোলাম আযমকে বিদেশ থেকে এনে দেশে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন জিয়া। একাত্তরের রাজাকার আলবদরদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হলেও জিয়াউর রহমান এদেশে তাদের পুনরায় রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিলেন। জিয়া মুক্তিযুদ্ধের সকল চেতনাকে ধ্বংস করার জন্য সব সময় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য শামসুন্নাহার এমপি,কাউন্সিলর আব্দুল আলিম , কাউন্সিলর জাবেদ আলী জবে , মাওলানা আকতার হোসেন গাজীপুরী, হায়দার আলী, ইয়াসিন আলী, মোসলেম উদ্দিন, কানন মোল্লা, মশিউর রহমান সরকার বাবুসহ গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
