×

দেশ প্রেমের কাছে পর্যুদস্ত পরাশক্তি পলায়নপর

মোহাম্মদ আলম : দেশ প্রেমিকের সব থেকে বড় অস্ত্র হচ্ছে তার জীবন। দেশের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত মুজাহিদের সামনে কি পরাশক্তি বা পরাক্রমশালী সবই সমান। আফগানিস্তানের বীর দেশ প্রেমিকরা তা আরো একবার প্রমান করেছে। মাত্র ৭০ থেকে ৮০ হাজার আফগান মুজাহিদের সামনে আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত কয়েক লাখ দখলদার সৈন্য ২০ বছর যুদ্ধ করেও পরেনি। এখন কোন রকমে পালানোর জন্য তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। পলায়নপর দখলদার বাহিনিকে পালানোর সুযোগ দিয়ে তালেবানরা বরং মানবিকতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো। যে সুযোগ ১৯৭৫ সালে সায়গনে ভিয়েতনামের কাছে পায়নি যুক্তরাষ্ট্র।

আফগান মুজাহিদের এই বীরত্বের ইতিহাস শতাব্দীকাল ধরে বহমান। বংশপরম্পরায় আফগান মুজাহিদরা বর্হিশক্তির বিরুদ্ধে নিজেদের শ্রেষ্ঠেত্ব প্রমান করেছে। সোভিয়েত রাশিয়া এবং বৃটিশদের সাম্রাজ্যবাদি মনোভাব তখন তুঙ্গে। গত শতাব্দীর গোড়ার দিকে একে একে তারাও আফগানদের হাতে মার খেয়েছে। আধুনিক বিশে^র পরাক্রমশালি যুক্তরাষ্ট্র এখন খাবিখা অবস্থা। পালাতে পারলে বাঁচে। ‘‘তাদের নাগরিকদের আফগানিস্তান ত্যাগে কোন প্রকার বাধা দেয়নি তালেবান।’’ কতটা সন্ত্রস্ত ছিলো যুুক্তরাষ্ট্র! ১৭ আগষ্ট্রে করা সংবাদ সম্মেলনের ভাষ্যেই তা প্রকাশ হয়েছে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে ? সামরিক শক্তিতে বলিয়ান পরাশক্তিরা অপেক্ষাকৃত দূর্বল দেশের উপর নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেবার প্রবণতা থেকে ক্ষান্ত হবে কিনা। ইতিহাসের সব থেকে বড় ব্যর্থতা হচ্ছে যে, ইতিহাস থেকে কেহ শিক্ষা নেয় না। কথিত পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন যেমন আফগান থেকে শিক্ষা নেয়নি। যে কারনে একদিন তারা খন্ড বিখন্ড হলো। বৃটিশরাও সাম্রাজ্য হাড়িয়েছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দগ্দগে ভিয়েতনাম স্মৃতি শুকাতে না শুকাতেই আফগান আগুন ছাই চাপা হলো। এখন দেখার বিষয় কতদিন এই ছাই চাপা আগুন যুক্তরাষ্ট্রকে বিক্ষত করে। বাইডেন প্রশাসনেরই বা এর জন্য কি খেসারত অপেক্ষা করছে।

কথায় কথা আসে। ইতিহাস টানলে নিজের মনের খেদও চাড়া দেয়। ১৯৭১ সালের কথা আমরা এখনো ভুলিনি। একাত্তুরের রণাঙ্গণে বাংলার দামাল ছেলেরা যখন পাকিস্তানি হানাদারদের নাস্তানাবুদ করছিলো তখন এই যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের পক্ষে সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছে। কথিত পরাশক্তিরা সব সময়ই দখলদারদের সাথে থেকেছে। দেশ প্রেমিকের সাথে না। তবে ইতিহাস সাক্ষি। আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা সাক্ষি। বিজয় সব সময় দেশপ্রেমিকের হয়েছে।

আফগান বীরদের অভিনন্দন। তালেবান আফগান নেতৃবৃন্দ কৌশলি আচরন করছে। তাদের বক্তব্যেও বেশ সংযমি মনোভাব। বুঝা যাচ্ছে বর্তমান আফগান তালেবানের সাথে প্রতিষ্ঠাকালিন কট্টরবাদী মনোভাবের বেশ ফারাক। তবে আফগান তালেবানদের একথা মনে রাখতে হবে দখলদারবাহিনী তাদের সাফল্যকে সহজভাবে নেবে না। সুযোগ পেলেই চড়াও হবে। প্রতিশোধের মওকা খুঁজবে। আর একইসাথে বিপদজনক দেশের ভিতরে ঘাপটি মেরে থাকা দখলদারদের দোসর চক্র। এইসব রাজাকার সুযোগ পেলেই নিজেদের স্বার্থে দেশকে বিলিয়ে দিতে পারে। আফগান তালেবান এক্ষেত্রে বাংলাদেশের বর্তমান দিকে দেখতে পারে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বেশ শক্তহাতে দখলদার বাহিনির দোসর শক্তিকে দমন করেছে। দেশের স্বার্থে দখলদারিত্ব রুখতে এটা অবসম্ভাবী।