×

পর্দা উঠল অলিম্পিক গেমসের

স্পোর্টস ডেস্ক: অপেক্ষার অবসান হলো। আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা উঠল টোকিও অলিম্পিক গেমসের। ‘দ্যা গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত ক্রীড়াযজ্ঞের শুক্রবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন জাপানের সম্রাট নারুহিতো। আধুনিক অলিম্পিকসের ৩২তম আসরের মশাল প্রজ্জ্বলন করেন তারকা টেনিস খেলোয়াড় নাওমি ওসাকা। হাইতিয়ান বাবা ও জাপানি মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া ওসাকা টেনিস খেলেন মায়ের দেশের পরিচয়ে। ২০১৮ সালে ইউএস ওপেনের ফাইনালে সেরেনা উইলিয়ামসকে হারিয়ে প্রথম জাপানি খেলোয়াড় হিসেবে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের কীর্তি গড়েন তিনি। এ পর্যন্ত এই তারকা অ্যাথলেটের অর্জনের শোকেসে আলো ছড়াচ্ছে দুটি ইউএস ওপেন ও দুটি অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শিরোপা। এবারের আসরে স্বাগতিক জাপানের ৫৫২ জন অ্যাথলেট অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ২৯৩ পুরুষ ও ২৫৯ জন নারী। রীতি অনুযায়ী গ্রিসের প্রাচীন অলিম্পিয়ায় গত বছর মার্চে হয়েছিল টোকিও ২০২০ অলিম্পিকসের মশাল প্রজ্জ্বলন। গত বছরই মাঠে গড়ানোর কথা ছিল এবারের আসর। কিন্তু করোনাভাইরাসের থাবায় এক বছর পিছিয়ে দেওয়া হয় তা। এক বছর পেছালেও টোকিওর আসরের সঙ্গে থাকছে ‘২০২০’। তবে, এখনও এ আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন থেমে নেই। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হঠাৎ করে বাড়তে থাকায় টোকিওতে আসরটি আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে খোদ জাপানিরাই। শঙ্কা জেগেছিল শেষ মুহূর্তে সবকিছু ভেস্তে যাওয়ার। কিন্তু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সেই শঙ্কার অবসান হলো।

মার্চ পাস্টে সবার আগে ছিল গ্রিস, যারা অলিম্পিক গেমসের প্রথম আয়োজক। এরপর অলিম্পিকসের রিফিউজি দল এবং সবশেষে আসে স্বাগতিক জাপান দল। সব মিলিয়ে ২০৭টি দেশ এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রায় ৬৮ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ছিল না সাধারণ দর্শক। ২০৭টি দেশের অ্যাথলেট, কোচ, কর্মকর্তাদের
সঙ্গে ছিলেন জাপানের সম্রাট নারুহিতো এবং এক হাজার ভিআইপি। এবার প্রায় প্রতিটি দেশের পতাকাই বহন করেছেন একজন করে নারী ও পুরুষ অ্যাথলেট। বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন সাঁতারু আরিফুল ইসলাম ও আর্চার দিয়া সিদ্দিকী। বাংলাদেশের হয়ে এই আসরে অংশ নেবেন মোট ৬ অ্যাথলেট। বাকিরা হলেন সাঁতারু জুনাইনা আহমেদ, আর্চার রোমান সানা, স্প্রিন্টার জহির রায়হান ও শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকি।
মার্চ পাস্ট শুরুর আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন শান্তিতে নোবেল জয়ী বাংলাদেশি মোহাম্মদ ইউনুস। তখন তার হাতে ছিল অলিম্পিকের লোগো সংবলিত অলিম্পিক লরেল। টোকিওর আসরের শুভকামনা জানান তিনি। করোনাভাইরাসের থাবায় এখন বিপর্যস্ত সরাবিশ্ব। ঘরবন্দি মানুষ। এই কঠিন সময়ে অ্যাথলেটদের কিভাবে কাটাতে হয়েছে, প্রস্তুতি নিতে হয়েছে, তা তুলে ধরেন তোসুবাতা আরিসা; যিনি একই সঙ্গে নার্স ও বক্সার। ফিট থাকতে ট্রেড মিলে দৌড়েছেন আর্সিয়া; যার মধ্যে ফুটে উঠেছে করোনার মহামারীর সময়ে সারা বিশ্বের অ্যাথলেটরা ঘরে একা অনুশীলন চালিয়ে যেতে কতটা কষ্ট করেছেন।
টোকিওর অলিম্পিকস স্টেডিয়ামে আনা হয় অলিম্পিক রিং। তাতে ফিরে আসে টোকিওর ১৯৬৪ আসরের স্মৃতিও। অলিম্পিকস রিংয়ের পাঁচটি বৃত্ত তৈরি করা হয়েছে সেই গাছের কাঠ দিয়ে, যে গাছগুলো ১৯৬৪ সালের অ্যাথলেটরা লাগিয়েছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নানা প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয় বিভিন্ন দেশের শিল্প-সংস্কৃতি। বৈশ্বিক সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা দিয়ে শিল্পীরা গেয়ে ওঠেন জন লেননের বিখ্যাত ‘ইম্যাজিন’ গানটি। সুঙ্গিনামী জুনিয়র কোরাস দলের সঙ্গে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে রেকর্ড করে আনা আঞ্জেলিক কিজো, আলেহান্দ্রো সানস, জন লেজেন্ড ও কেইথ আরবানের ভিডিও দেখানো হয়।
টোকিওর আসরের আয়োজক কমিটির সভাপতি হাশিমোতো সেইকো ধন্যবাদ জানান করোনাভাইরাসের এই কঠিন সময়ে সামনে থেকে কাজ করে যাওয়াদের। ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটির প্রধান টমাস বাখ তার ভাষণে উদ্বোধনী দিনটিকে অভিহিত করেন ‘আশার মুহূর্ত’ বলে।
“আজ এটি আশার মুহূর্ত। হ্যাঁ, আমরা সবাই যেমনটা কল্পনা করেছিলাম, এটা তার চেয়ে খুবই আলাদা। কিন্তু আসুন, মুহূর্তটা আমরা উদযাপন করি; কেননা, শেষ পর্যন্ত আমরা একত্রিত হয়েছি। ২০৫টি জাতীয় অলিম্পিক কমিটি এবং ইন্টারন্যাশনাল রিফিউজি অলিম্পিক টিমের অ্যাথলেটরা অলিম্পিক ভিলেজে থাকবে এক ছাদের নিচে।“এটা সব খেলাধুলার একত্রিত শক্তি। এটি সংহতির বার্তা দেয়, শান্তি ও সহনশীলতার বার্তা দেয়। এটি আমাদেরকে একত্রে আরও সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দেয়।”