×

কালিয়াকৈর পৌরসভা নির্বাচন ৫ বছর ঝুলে আছে

বিশেষ প্রতিনিধি, গাজীপুর থেকে : গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর পৌরসভা নির্বাচন ৫ বছর ঝুলে আছে। ১৮ বছর যাবৎ প্রশাসক এবং মেয়র হিসাবে চেয়ার দখল রেখেছেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মজিবুর রহমান। সীমানা জটিলতা নিয়ে একটি মামলা নিস্পত্তি হতেই ফের নতুন মামলা করা হয়। পরিকল্পিতভাবে সাজানো মামলায় নির্বাচন বিলম্বিত করা হচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এতে নাগরিক সেবা লাটে উঠেছে। ক্ষুদ্ধ নাগরিকরা দ্রুত সমস্যার সমাধান করে নির্বাচন দাবি করেছেন।

মেয়র মোঃ মজিবুর রহমানের ভাষ্য, নির্বাচন দেয়ার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে বা করতে পারবেন না।

স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে এপ্রিল মাসে গঠিত কালিয়াকৈর পৌরসভায় ২০০৩ সালে কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০৪ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মজিবুর রহমান প্রশাসক হিসাবে ছিলেন। ২০১১ সালের নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হয়ে পুনরায় মেয়র হিসাবে চেয়ারে বসেছেন। পরবর্তি নির্বাচনের আগেই টেংলাবাড়ি এলাকার সীমানা নিয়ে আদালতে দুইটি মামলা করা হয়।
৭ ফেব্রেুয়ারী ২০২১ তারিখ প্রকাশিত পত্র থেকে জানা যায়, হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নং-১০৩৯২/২০১৯ এর শুনানিতে ১৭ জানুয়ারী ২০২১ তারিখে হাইকোর্ট আদেশ দেন। হাইকোর্ট কালিয়াকৈর পৌরসভার টেংলাবাড়ি মৌজার জে এল নং ১৪২ এর ০১-২৯, ১৮০, ১৮১, ৫৫-৭৭, ৮২, ১৪৮ এবং ১৪৯ এই মোট ৫৮টি দাগসমুহ পৌর এলাকায় অর্ন্তভুক্ত করতে নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের আদেশ মোতাবেক ৩ মার্চ ২০২১ তারিখে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে উক্ত পৌরসভার ভোটার তালিকা পূর্ণবিণ্যাসের কার্যক্রম শুরু করতে উপজেলা নির্বাচন অফিসকে চিঠি প্রেরণ করেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্বাচন বানচাল করতে সীমানা নিয়ে প্রথমে মামলা ও পরে রিট করা হয়েছে। একটি মামলা নিস্পত্তি হলেও টেংলাবাড়ি মৌজার সীমানা নিয়ে অপর মামলা এখনো চলমান। মেয়রের চেয়ার দখলে রাখতে একটি মহল পরিকল্পিতভবে এসব করছে। আর আওয়ামী লীগের কতিপয় সুবিধাবাদী নেতা মেয়রের সহযোগী হিসাবে প্রভাব খাটাচ্ছে।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাত্তার গেট এলাকার বাসিন্দা আঃ কাদের (৫৫), উত্তর চান্দরা ডেকের চালা রোডের পান দোকানী নজরুল ইসলাম, পৌর সার্কেল রোডের চা দোকানী আজিজুল ইসলাম, খাজার ডেক সড়কের আরফান আলীসহ পৌর এলাকার অসংখ্য বাসিন্দা জলাবদ্ধতা ও খানাখন্দ সড়ক নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের ভাষ্য, কাউন্সিলর বা মেয়র কোনদিনই তাদের কোন প্রকার খোঁজ খবর নেয় না। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কে হাটু পানি জমে। খানখন্দ রাস্তায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। সময়মত নির্বাচন হলে এলাকার উন্নয়ন আরো বেশী হতো। তাছাড়া নির্বাচন এলে অল্প দিনের জন্য হলেও জনগণের কদর বাড়ে।

পৌর এলাকার জনদূর্ভোগ বিষয়ে জনসাধারণের অভিযোগ নিয়ে মেয়র বলেন, পৌর এলাকায় রাস্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন হয়েছে। ঘণবসতিপূর্ণ হওয়ায় ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কিছু সমস্যা। তবে পরবর্তি অর্থ বছরে এখানকার সমস্যা নিরসনে অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।

গাজীপুর জেলা নির্বাচন অফিসার কাজী মোঃ ইস্তাফিজুল হক বলেন, আদালতের নির্দেশ মোতাবেক ভোটার তালিকা পূর্নবিন্যাস করা হয়েছে। তবে দ্বিতীয় মামলার এখনো কোন নিস্পত্তি হয়নি। আদেশ আসলে পরবর্তিতে সেই মোতাবেক কাজ করবো।