নিজস্ব প্রতিবেদক, টঙ্গী : গাজীপুরে বাসায় চুরির সময় বাধা দেওয়ায় মুখ চেপে, গলাকেটে ও ছুরিকাঘাত করে পঞ্চম শ্রেণির স্কুলছাত্র তৌসিফুল ইসলাম মুন্নাকে (১৪) খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। ক্লুলেস এ ঘটনার প্রায় দুই বছর পর রহস্য উন্মোচন করেছে গাজীপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় মঙ্গলবার ভোরে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিকালে গাজীপুর পিবিআই’র পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান এ নিশ্চিত করেছেন।
নিহত তৌসিফুল ইসলাম মুন্না পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার রায় তাঁতেরকাঠি গ্রামের মিজানুর রহমান ওরফে জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে। সে ঢাকার উত্তরা শাহিন ক্যাডেট স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা রাজধানীর বনানী এলাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন এবং সপরিবারে টঙ্গীর গাজীপুরা এলাকার চন্দ্রিমা হাউজিং প্রকল্পের জনৈক হাবিবুর রহমানের বাড়ির ৪র্থ তলায় ভাড়া থাকতেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন- ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার চরমোকামিয়া এলাকার আনোয়ার হোসেন (২৫) এবং জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার জাকিরপাড়া এলাকার মোফাজ্জল হোসেন (৩১)। তারা গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পূর্ব থানার গাজীপুরা এলাকার পৃথক ভাড়া বাসায় থাকেন।
এসপি মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান জানান, মিজান ২০১৯ সালের ১৮ জুলাই সকাল ৭টার দিকে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। পরে মুন্নাকে বাসায় রেখে তার মা ছোট ছেলে তামিমকে নিয়ে পাশের স্কুলে যান। স্কুল থেকে সকাল সোয়া ১০টার দিকে মা হামিদা আক্তার বাসায় ফিরে ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো অবস্থায় দেখতে পান। তিনি প্রতিবেশীদের সহায়তায় ঘরের ভেতরে ঢুকে বেডরুমের খাটের উপর উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা মুন্নার লাশ দেখতে পেয়ে ডাক চিৎকার করেন। নিহতের গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাটা এবং পেটে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ব্যাপারে নিহতের বাবা মিজান অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পুলিশ প্রায় দুই মাস তদন্তকালে সন্দেহভাজন একজনকে আটক করলেও কোন রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। পরবর্তীতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস এ ঘটনার মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় গাজীপুর পিবিআইকে।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই’র) তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর হাফিজুর রহমান তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এ ঘটনায় জড়িত আনোয়ার ও মোফাজ্জল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেন। তাদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করার একপর্যায়ে সহযোগীদের সহায়তায় গ্রেপ্তাররা তৌসিফুল ইসলাম মুন্নাকে খুন করার কথা স্বীকার করে। গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের বাসা থেকে লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তাররা আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করে। ঘটনার প্রায় দুই বছর পর চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস স্কুলছাত্র তৌসিফুল ইসলাম মুন্না হত্যার রহস্য উন্মোচন হলো।
তিনি আরো জানান, বাসায় ভিকটিমের বাবা ও মায়ের অনুপস্থিতির সুযোগে ওই দুই যুবক সকাল ৯টার দিকে মুন্নাদের বাসায় যায়। তারা মুন্নাকে ডেকে দরজা খুলে প্রবেশ করে এবং ঘর থেকে মোবাইল ও ক্যামেরা লুট করার চেষ্টা করে। এসময় বাধা দিলে মুন্নার মুখ চেপে ধরে গলাকেটে ও ছুরিকাঘাত করে তাকে খুন করে। পেটে ছুরিকাঘাত করায় মুন্নার নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায়। পরে বিভিন্ন মালামাল লুট করে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তাররা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে মূলত চুরি করার উদ্দেশ্যে প্রবেশ করলে আসামিদের চিনে ফেলায় ভিকটিম তৌসিফুল ইসলাম মুন্নাকে তারা হত্যা করে।
