রাজন্য রুহানি, জামালপুর : বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক ও বিভিন্ন জিনিসপত্র আনার জন্য প্রায়ই মারধোর করত স্বামী। অপমানজনক কথাবার্তা ও বিদ্রুপ দিয়ে করত মানসিক নির্যাতনও। এসব নিয়ে বিয়ের দু বছরে বেশ কয়েকবার স্বামী ও পিতার পরিবারে ঘরোয়া বৈঠক হলেও শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন একটুও থামেনি। তবুও স্বামীর ঘর করতে চেয়েছি। মন্দ ভাগ্য। পিতা গরিব। স্বামীর পরিবারের চাহিদা মেটাবে কী করে!
শেষবার (মঙ্গলবার, ১৮ মে) আমাকে মেরে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রেখেছিল। বাবা এসেও উদ্ধার করতে পারেননি। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে তারা। বাবা উপায়ন্তর না দেখে ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে।
এমন কথাই জানালেন জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বাট্টাজোড় ইউনিয়নের কুমড়িকান্দা গ্রামের নৈয়বর আলীর মেয়ে নির্যাতিতা গৃহবধূ সোনিয়া বেগম (২৩)। তিনি একই ইউনিয়নের চুড়িয়া পাড়া গ্রামের আবু বকরের ছেলে আদিল মিয়ার (২৮) স্ত্রী।
মঙ্গলবার বিকেলে ওই গৃহবধূকে উদ্ধারের পর রাতেই স্বামী আদিল মিয়া ও চাচাতো দেবর আলাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার (১৯ মে) সকালে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠান।
এই তথ্য নিশ্চিত করে বকশীগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম সম্রাট জানান, মঙ্গলবার রাতে নির্যাতিতা গৃহবধূর বাবা থানায় মামলা করেছেন। মামলা নং ১০।
