×

গাজীপুরে শিশুকে নির্মম নির্যাতন, দম্পতি গ্রেপ্তার

মাহবুবুর রহমান জিলানী , গাজীপুর : ফারজানা আক্তার মিম নামের ৯ বছরের শিশুকে নির্মমভাবে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ দেলোয়ার হোসেন এবং জেসমিন দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে।

মহানগরের টঙ্গীতে মিলগেট এলাকায় আবু শাকেরের বাড়ির ভাড়াটে ওই দম্পতি। দেলোয়ার মিলগেট এলাকায় পরিবহন (ট্রাক) ভাড়া দেয়ার ব্যবসা করে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার উপ পরিদর্শক উত্তম কুমার সূত্রধর জানান, মিম গৃহকর্মী হিসাবে ওই দম্পতির কাছে ছিলো। প্রাথমিকভাবে মিমের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন আছে। অভিযোগের ভিত্তিতে দেলোয়ার দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ফারজানার পিতা আনিসুর রহমান নোয়াখালির সোনাইমুড়ি থানার বাজরা গ্রামের বাসিন্দা।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে টঙ্গী পশ্চিম থানায় তিনি অভিযোগ দায়ের করে। সেখানে থাকা ফারজানা আক্তার মিম ও তার পিতার সাথে কথা বলে।
দেখা গেছে, মিমের কপালে ৭টি সেলাইয়ের চিহ্ন। ডান হাতে কব্জির উপরে ভাঙার পর একটু বেকে গেছে। ঘাড়ের কাছে মারের চোটে কোলো জখম। একইভাবে কোমরে ও কালো জখম। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছোপ ছোপ কালো জখম।
ফারজানার পিতা আনিসুর রহমান জানান, দেলোয়ার দম্পতি মিমকে দীর্ঘদিন যাবৎ অত্যাচার করে আসছিলো। কাঠ দিয়ে বেধরক পিটিয়েছে। কিছুদিন আগে কাঠের আঘাতে কপালে গভির ভাবে জখম হয়। পরে ৭ টি সেলাই দেয়া হয়েছে। তাছাড়া শিশু বাচ্চার গোপনাঙ্গসহ শরীরে অমানবিক নির্যাতনের চিহ্ন আছে।
আনিসুর আরও জানান, তিনি সিএনজি চালান। করোনার কারনে দুই মেয়ে নিয়ে সংসারে অভাবের কারনে গত ১ বছর ৩ মাস পূর্বে তাদের এক আত্মীয়ের মাধ্যমে মেয়ে মিমকে আনিসুর দম্পতির কাছে দেন। তিনি নিজে আসেননি। তাদের বলা হয়েছিলো মিমকে তাদের মেয়ের মত রাখবে। দেলোয়ারের সমবয়সী মেয়ের খেলার সঙ্গী হিসাবে থাকবে। বিনিময়ে তিনি কোন টাকা পয়সাও নেননি। মিমকে স্কুলেও ভর্তি করানোর কথা। শারিরি নির্যাতনের সাথে সাথে খাবারেও কষ্ট দিয়েছে।
তিনি জানান, ঈদের পরদিন তার শালি(স্ত্রীর বোন) ঝর্ণার কাছে মিমকে দিয়ে আসে দেলোয়ার। তখন মিমের শরীরের এইসব চিহ্ন দেখে নির্যাতনের বিষয় জানতে পারেন। একে একে মিম সব কিছু বলে। মেয়ের খোজ খবর নিতে দেলোয়ারকে মোবাইলে কল দিলেও তিনি কখনো কোন উত্তর দিতেননা।
জিএমপি টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ মো শাহ আলম অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শিশুটির কপাল ঘাড় ও কোমড়ে অমানবিক নির্যাতনের জখম রয়েছে। অভিযুক্ত দম্পতির বিরুদ্ধে মামলার প্রকৃয়া চলছে।