মোহাম্মদ আলম : ‘যারা তাদের সম্পদ দিন-রাত প্রকাশ্যে, গোপনে আল্লাহর পথে খরচ করে তাদের পুরস্কার তাদের প্রতিপালকের কাছে রাখা আছে। তাদের কোনো ভয় নেই, তারা কোনো আফসোস করবে না।’ [সুরা : আল-বাক্বারাহ ২৭৪]
করোনাকালের দ্বিতীয় ঢেউ এ বিপন্ন মানুষের পাশে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। বরাবরই জাহাঙ্গীর আলম একজন দাতা হিসাবে পরিচিত। কিন্তু করোনাকাল দীর্ঘতর হবার সাথে সাথে মানুষের সমস্যাও বেড়েছে। ২০২১ সালের এই করোনাকালের ঈদ মুসলিমের সর্ববৃহৎ আনন্দের দিন হলেও আর্থিক অনটনে তা যেন বিষাদের সাগর। প্রথমে কাজ ছিলো না। তবে গত ঈদে জমা টাকায় চলেছে। এখন কাজ নেই। ঘরে জমা টাকা নেই। অনেকের খাবারও নেই। মধ্যবিত্তের পরিস্থিতি ভয়াবহ। তিনি মানুষের কাছের মানুষ। জানেন সেইসব মানুষের হাড়ির খবর। উদার হস্তে সময়মত সেইসব মানুষের পাশে দাড়ালেন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশে এক এবং অদ্বিতীয় দানবীর জাহাঙ্গীর আলম।
১৫ হাজার শিক্ষার্থীকে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা শিক্ষা বৃত্তি। ১০ হাজার কিন্ডারগার্টেন শিক্ষককে জনপ্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা অনুদান। ৫ হাজার ইমামকে জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা। ২ সহস্রাধিক গণমাধ্যমকর্মীকে ২ থেকে ১০ হাজার টাকা নগদ উপহার। গণপরিবহন চালক প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনকে নগদ আড়াই হাজার টাকা অনুদান। ১৬০ জন নারীকে সেলাই মেশিন উপহার। এর যে কোন একটি ঘটনায় একজন মানুষকে দাতা বলার জন্য যথেষ্ট। দাতা হাতেম তাই এর নাম আমরা শুনেছি। আর যখন একজন মাত্র মানুষ কয়েকদিন ধরে দিনরাত শুধু অনুদান বিলিতে ব্যস্ত থাকেন তবে তাকে দানবীর বলতেই হবে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোঃ জাহাঙ্গীর আলম এমনি একজন দানবীর। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার স্বাধীন বাংলাদেশে মানবতার জননী শেখ হাসিনার রোপিত চারাগাছ সোনার ছেলে দানবীর জাহাঙ্গীর আলম। স্বাধীন বাংলাদেশে দানবীর জাহাঙ্গীর আলম এক এবং অদ্বিতীয়।
জাহাঙ্গীর আলমের দানের ক্ষেত্র আরো বিস্তৃত। করোনাকালে যে কোন মানুষ তার কানে নিজের বিপদের কথা বলা মাত্র তিনি সহায্যের হাত বাড়িয়েছেন। করোনাকালে সমস্যা নিয়ে জাহাঙ্গীর আলমের দ্বারস্থ হয়ে সহযোগীতা পায়নি, এমন নজির নাই। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কয়েকটি বৃহৎ পোশাক কারখানা শ্রমিকদের সময়মত বেতন পরিশোধ করতে পারছিলো না। সেখানেও তৎক্ষণাত কারখানা মালিকের হাতে বেতন পরিশোধ করার টাকা দিয়েছেন। এসবতো গেলো নাম ডেকে ডেকে দেয়া অনুদান বা উপহার। তার বাইরেও অসংখ্য মানুষ নিরবে তার সহযোগীতা পেয়েছেন। গোপনে তার দান অনুদানের পরিমানও নেহত কম নয়। নগদ অর্থ ছাড়াও খাদ্য সহায়তা, শাড়ি, লুঙ্গি এসবও দিয়েছে জাহাঙ্গীর আলম। আরও একটি বিষয় হচ্ছে দেব বা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জাহাঙ্গীর আলম মানুষের মাঝে বাহবা নেবার কাজ করেন না। মানুষ তার কাছে গেলে তিনি সাথে সাথে হাতে তুলে দেন।
মহামারি করোনাকালে পৃথিবীর মানুষ চরম বিপর্যয়ক্রর পরিস্থিতির সম্মুখিন। কোটি কোটি মানুষ বেকার। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আরব, ইউরোপ বিশে^র প্রতিটি কুনে করোনার ভয়াল থাবা। বিপর্যস্ত প্রতিবেশী ভারত। এক বুক নিঃশ^াস অক্সিজেনের জন্য চারদিকে হাহাকার। মৃতরা শহীদের কাতারে সামিল হয়ে পরপারে জীবিতদের জন্য আফসোস করছে। বিশ^ আজ জীবন্মৃত। অনেকের কাজ আছে কিন্তু ঠিকমত বেতন নেই। বিশেষভাবে আমাদের মত দরিদ্র দেশের অবস্থা আরো নাজুক। এই পরিস্থিতিতে চেনামুখ ধনাঢ্য ব্যক্তি বা শিল্প গোষ্ঠির অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন। কিন্তু ব্যক্তি পর্যায়ে জাহাঙ্গীরের দান-অনুদানের পরিমাণের ধারে কাছে কেহ থাকবে না। নগদ অর্থ দানের পরিমান বা খাদ্য সহায়তা প্রতিটি ক্ষেত্রেই জাহাঙ্গীর আলম এক এবং অদ্বিতীয় দানবীর।
অতিমারির এই ভয়াল পরিস্থিতি সামালে উন্নত দেশের সরকারগুলোও বার বার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত সফলতার সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। তার বিশেষ অনুগ্রহপ্রাপ্ত এবং আস্থাভাজন কর্মী গাজীপুরের মেয়র মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। ব্যক্তিগত পর্যায়ে জাহাঙ্গীর আলম বাংলাদেশ তথা তৃতীয় বিশে^র শ্রেষ্ঠ দানবীর। উপমহাদেশে বর্তমানে জাহাঙ্গীর আলমের মত দানবীর দ্বিতীয়টি নেই। মানবতার পক্ষ থেকে জাহাঙ্গীর আলম এবং তার পরিবারের সদস্যদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।
