×

রাঙ্গামাটিতে মামলা দিয়ে একটি পরিবারকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ চেষ্টার অভিযোগ

মো নুরুল আমিন, রাঙ্গামাটি : দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে রাঙ্গামাটি শহরের চম্পকনগর এলাকায় ১৫ শতক জায়গায় বসতবাড়ি করে বসবাস করে আসছেন সঞ্জু বড়ুয়া ও তাঁর পরিবার। তাঁর অনেক ভাড়াটিয়াও ছিল। এদের মধ্যে একজন ভাড়াটিয়া ছিল বিজয় মন্ডল। প্রায় ৪ থেকে ৫ বছর ধরে ভাড়াটিয়া বিজয় মন্ডলকে অর্থের প্রলোাভন দেখিয়ে চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা জনৈক নিহার কান্তি দাশ নামে এক ব্যক্তি বিজয় মন্ডলকে বাড়ির কেয়ারটেকার সাজিয়ে ও নিহার কান্তি দাশ নিজেই জায়গার মালিক দাবি করে এবং ক্ষমতাশীন দলের প্রভাব কাটিয়ে সঞ্জু বড়ুয়াকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের চেষ্টা করছে।

বুধবার দুপুরে রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাব নিজ বসতবাড়ি রক্ষায় এবং হামলা ও মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনে সঞ্জু বড়ুয়া এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, সঞ্জু বড়ুয়ার ভাড়াটিয়া বিজয় মন্ডল অর্থের বিনিময়ে জনৈক নিহার কান্তি দাশের কেয়ারটেকার দাবি করে প্রায় ৪ থেকে ৫ বছর বাসা ভাড়া পরিশোধ করেননি। এমনকি ভাড়া আদায় করতে তাকে উকিল নোটিশও দেয়া হয়েছিল। এছাড়াও স্থানীয়রা নিহার কান্তি দাশ নামে কাউকে চেনে না এবং তার নামে কোন জায়গা বা বসতবাড়ি নেই। তবুও রাজনৈতিক ছত্র ছায়ায় এবং কিছু অসৎ ব্যক্তির কু-পরামর্শে বিভিন্নভাবে মামলা ও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এই নিহার কান্তি দাশ। এমনকি প্রতিনিয়িত প্রাণনাশের হুমকিও দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

লিখিত অভিযোগে সঞ্জু বড়ুয়া আরো বলেন, চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জের প্রভাবশালী এই নিহার কান্তি দাশ এর মৃত ভাই তুষার কান্তি দাশ এর নামে যদি জায়গা থাকে তাতে জায়গা বুঝে নিতে জেলা প্রশাসনসহ আইন কানুনগোর সহায়তা না নিয়ে তিনি কেন সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তা আমার পরিবার এবং স্থানীয়দেরও প্রশ্ন। তিনি বলছেন তাঁর ভাইয়ের জায়গায় সেখানে মসজিদ নির্মাণ হয়েছে এলাকার অনেকেও জানেন। অথচ তিনি আমাদের উপরই এককভাবে একের পর এক মামলা হামলা করানো দুরভিসন্ধি বলেই মনে হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে যিনিই কথা বলছেন তাকেও মামলায় জড়াবেন, পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করাবেন বলে হুমকী প্রদান করছেন। বর্তমানে কোর্টে মামলা থাকা সত্বেও গত ২২/৪/২১ইং তারিখ তিনি তার ভাড়াটিয়ার বাসায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছেন। এখন পানির লাইন আনার জন্য তোররজোড় চালাচ্ছেন তিনি কি এতই প্রভাবশালী যে, তাঁর কথাতেই দেশের আইন-কানুন প্রশাসন চলে। তাঁর এই অসৎ এবং দুরভিসন্ধি উদ্দেশ্যগুলি বের করে প্রশাসনের উচিৎ এসবের বিষয়ে সঠিক ব্যবস্থা নেয়া।

এব্যাপারে নিহার কান্তি দাশের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদকের সাথে রূঢ় আচরণ করেন এবং নিজের জায়গা বলে দাবি করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, সঞ্জু বড়ুয়ার পুত্রবধু বিথিকা বড়ুয়া, ছেলে সজীব বড়ুয়া।