ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী: রাজশাহীতে আনসার সদস্য হত্যার আসামী ৪ ঘন্টার ব্যবধানে পুঠিয়া উপজেলা থেকে আটক করেছে থানা পুলিশ। নিহত মিজানুর রহমান (মিজান-৩৫) ২৪ আনসার ব্যাটালিয়ানের সদস্য হিসাবে কর্মরত ছিলেন। গতকাল শনিবার রাতে একটি মুদি দোকানের আলো বন্ধ করার সূত্র ধরে প্রতিপক্ষ মাধব সরকার আনসার সদস্যকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিজান মৃত্যু বরণ করে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার গোলাম রহুল কুদ্দুস।
রাজশাহী মহানগরীতে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে আনসার বাহিনীর এক সদস্য খুন হয়েছেন। শনিবার ৮টার দিকে মহানগরীর হেতেমখাঁ এলাকায় ওয়াসার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের অভ্যন্তরে এ হত্যাকান্ড হয়। নিহত আনসার সদস্যের নাম মিজানুর রহমান মিজান (৩৫)। তিনি নগরীর হেতম খাঁ সবজিপাড়া এলাকার মো. মনসুর রহমান মন্টুর ছেলে। মিজান টাঙ্গাইলের সফিপুরে আনসার সদস্য হিসেবে কর্মরত ছিল।
বোয়ালিয় মডেল থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মন গনম্যামকে বলেন, গতকাল শনিবার অনুমান রাত ৮টার সময় অভিযুক্ত মাধব আনসার সদস্যকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। স্থানীয়রা আহত মিজানকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে কর্তবরত চিকিৎসক আনসার সদস্য মিজানকে মৃত্যু ঘোষনা করে। ঘটনার ৪ ঘন্টার মধ্যে থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম অভিযুক্ত ব্যাক্তি আটক করে। পত্যক্ষদর্শী তিন বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রামেক হাসপাতাল মর্গে নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে ওয়াসার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের পাশে রেজা নামে এক ব্যক্তির দোকানের সামনে কয়েকজন বন্ধুসহ আড্ডা দিচ্ছেলেন নিহত মিজান। এসময় মিজানের আরেক বন্ধু হেতেমখাঁ এলাকার মদন কুমার ঘোষের ছেলে মাধব কুমার ঘোষও (৩৬) তাদের সঙ্গে ছিলেন। পূর্বের কোনো ঘটনার জের ধরে আনসার সদস্য মিজানের সঙ্গে মাধবের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে মাধব তাকে উপর্যুপরি বুকে ছুরিকাঘাত করে। পরে প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনসহ অভিযুক্ত মাধব তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। রামেক হাসপাতালে থাকা নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক শাহাদত হোসেন বলেন, তারা নিহতের ছুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করেছি। নিহত মিজানের বুকের বামপাশের ধারাল ছুরিকাঘাতে ২টি গভীর জখমের চিহৃ রয়েছে।
নিহত মিজানের মা মোছা. ময়না বেগম প্রতিবেদককে বলেন, লকডাউন শুরুতে কয়েকদিনের ছুটিতে বাড়িতে বেড়াতে আসে। ঘাতক মাধব তার ছেলেকে খুন করেছে। অপরদিকে পুলিশের অপরাধ বিভাগের (সিআইডি) সদস্যরা, পুলিশ ব্যুার অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর ক্রাইম সিন ইউনিট এবং মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে (যে স্থানে মিজান খুন হয়েছেন) গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেছে।
