×

সরকারী বরাদ্দের কমতি নেই, প্রাপ্তিতে রয়েছে অনিয়ম অভিযোগ করছে দিনমজুর

ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী থেকে: কোভিড-১৯ সংকটে মধ্যবৃত্ত, নি¤œ-মধ্যবৃত্ত এবং খেটে খাওয়া দিন মজুররা জীবন যুদ্ধে হাঁপিয়ে উঠেছে। সাধারন সাংসারিক জীবনেই পরিবার নিয়ে অভয় সংকটে থাকেন এসকল শ্রেনী পেশার মানুষ। চলমান করোনা ভাইরাসের চেয়ে ভয়াবহ পেটের ক্ষুধা। বর্তমান সরকারে বরাদ্দে রয়েছে যথেষ্ঠ কিন্ত প্রাপ্তিতে রয়েছে অনেক অনিয়ম।
করোনার প্রথম সংকটের পূর্ব থেকেই মধ্য, নি¤œ বৃত্ত এবং খেটে খাওয়া মানুষদের অভাব পিছু হঠছেই না। নতুন করে ২য় ধাপে শুরু হয়েছে করোনার ভয়াবহ রূপ। বিশে^র উন্নত দেশের সাথে আতঙ্কে কাপেছে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা ও ৪৯২টি উপজেলার প্রায় ১৭ কোটি মানুষ। ধনী ও গরিব ভেদাভেদ করছে না এই করোনা। কিন্ত এখানে অর্থের কাছে অনেকটাই অসহায় করোন ভাইরাস। এই সংকট মোকাবেলাই এমপি, মন্ত্রী, সরকারী চাকুরীজীবি ও ব্যবসায়ীরা কাটিয়ে উঠতে পারলেও ৩ শ্রেনীর মানুষ গুলো খুবই অসহায়।

রাজশাহী জেলাসহ বিভিন্ন জেলার একই রূপ রেখা লক্ষ করা যায়। রাজশাহী শহরে প্রতিদিন কাজের আশায় জেলার ৯ উপজেলা থেকে কাজের সন্ধানে ছুঁটে আসছে দিনমজুর। শহরের রেইল গেট, লক্ষিপুর, সিএন্ডবি মোড়, সাহেব বাজার, নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকয় দিন মজুররা দলবদ্ধ ভাবে কাজের সন্ধান করতে থাকে। পাখি ডাকা সকালে সাইকেল যোগে, কেউবা নানা রকম বিকল্প পরিবহনে শহরে এসে পৌঁছে। তারা দুপুরের খাবারের জন্য নিজ বাড়ি থেকে বাসি পান্তা, গুর ও গমের রুটি নিয়ে বাহির হয় কাজের সন্ধানে। অনেকে মজুর দুপুরে কলা বা একটি বন রুটি খেয়ে দিন পার করে। অপরদিকে তাদের পরিবার অপেক্ষা করতে থাকে রাতের খাবারের ব্যবস্থার আশায়।
দিনমজুর দলের সবার ভাগ্যে কাজ জুটে না। তাদের মধ্যে যারা সবল এবং কাজ করার ক্ষমতা বেশি তারাই কেবল আয় করতে পারে। অন্যদের হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। পরিবার নিয়ে নুন-পানতা খেয়ে ওই দিনটি পার করতে হয়, র্দীঘ শ^াসে এই কথা গুলো জানান দিনমজুরের একটি দল। ওই সময় তারা এই পত্রিকার প্রতিবেদককে বলেন, তারা বিভিন্ন উপজেলার প্রতন্ত গ্রাম থেকে কাজের সন্ধানে প্রতিদিন শহরে আসে। এদের মধ্যে অনেকের বাড়ি নেই, অন্যের দেয়া জমিতে টিনের ছাউনির ঘর বানিয়ে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন।

প্রধান মন্ত্রী গরীব অসহায়দের ভাতা ও বাড়ির ব্যবস্থা করছে। নানা সংকটে নগদ অর্থ ও খাদ্য সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করছে। দরিদ্র মুক্ত দেশ গড়ার লক্ষে কাজ করছে। কিন্ত তারা কোন সহযোগিতা পাচ্ছে না। উপজেলা ও ইউনিয়নের প্রকৃত অসহায় ও গরীব পরিবার সরকারী বরাদ্দ থেকে বঞ্ছীত হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের মধ্যে যারা অর্থ খরচ করতে পারছে তারাই কেবল সরকারী সুবিধা ভোগ করতে পারছে। ভোটের সময় এমপি, চেয়ারম্যান ও মেম্বার তাদের খোজ খবর নেয়ার চেষ্টা করেন কিন্ত কাজ হাসিল হলেই সকল আশা ব্যার্থ। গত বছর থেকেই করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে। এবছর নতুন করে পূনরাই করোনার ভয়াবহ নতন রূপ দেখা যাচ্ছে। রাজশাহীতে করোনাই মানুষ মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। তারা সকল বাধাঁ উপেক্ষা করেও কাজে আসতে হচ্ছে। অন্যথায় পরিবার নিয়ে না খেয়ে এমনিতেই মৃত্যু হবে তাদের। করোনার সাথে পাল্লা দিয়ে এনজিও ঘাড়ে পাক দিয়ে ঋণ আদায় করছে। সার্বিক পরিস্থিতি একটু লাঘবের আশায় দিনমজুর কাজে শহরে ছুঁটে আসে তারা। এই দুর্দশা হতে মুক্ত পাওয়ার আশায় দারে দারে ছুঁটে চলেছে খেটে খাওয়া মানুষ গুলো।