×

শশ্মানে স্ত্রীর মরদেহ, দুই সন্তানের লাশের অপেক্ষায় বাবা

মোঃ আমির হোসেন, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবিতে সারারাত অপেক্ষার পর ভোর সাড়ে ৩টার দিকে নিহত স্ত্রীর লাশ বুঝে পেলেও দুই সন্তানের এখনো খোঁজ মেলেনি। স্ত্রী সুনিতা শাহার (৪০) লাশ পোড়াচ্ছেন আর নিখোঁজ দুই সন্তানের খোঁজ নিচ্ছেন। সাধন সাহা সদর উপজেলার মালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

রবিবার সকালে সাধন সাহার স্ত্রী সুনিতা শাহা দুই ছেলে বিকাশ সাহা (২২) ও আকাশ সাহাকে (১২) নিয়ে গিয়েছিলেন ঢাকা জাতীয় চক্ষু ইন্সটিটিউট হাসপাতালে। আকাশ সাহাকে ডাক্তার দেখানোর জন্য। ডাক্তার দেখিয়ে নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ ঘাট হয়ে মুন্সীগঞ্জ ফিরছিলেন তারা। এ সময় ঘটে ভয়নক এক লঞ্চ দুর্ঘটনা। মা দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন সেই সময় শীতলক্ষ্যা নদীতে এস কে থ্রি নামে লাইটার জাহাজের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে দেয় লঞ্চটিকে।

সাধন শাহা জানান, স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে সন্ধ্যা ৬টার দিকে কথা হয়। সে সময় স্ত্রী জানায়, ডাক্তার দেখিয়ে লঞ্চে উঠেছে তারা। সন্ধ্যায় টিভিতে দেখি, নদীতে লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটেছে। তাদের নম্বরে কল দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। রাত সাড়ে ৩টার দিকে স্ত্রীর লাশ পেলেও দুই সন্তানের কোনো খোঁজ মেলেনি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সীগঞ্জ রুটে যে লঞ্চগুলো চলে তা ট্রলারের চেয়েও ছোট। এই ছোট লঞ্চ একটু দুর্ঘটনায় পরলেই ডুবে যায়। তাই আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করব এই ছোট লঞ্চ যাতে এই পথে আর না চলে। আমার মতো যেন আর কাউকে সর্বহারা হতে না হয়।

এদিকে দুর্ঘটনায় আক্ষেপ প্রকাশ করে নিহতের স্বজনরা জানান, সড়ক পথে মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। সরু রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়। নৌপথেও ভোগান্তির শেষ নেই। ভোগান্তির শেষ হয় জীবন দিয়ে। গত বছর লঞ্চ দুর্ঘটনায় মুন্সীগঞ্জের ৩০ জন মানুষ মারা গেল। এবারও এতো বড় একটি ঘটনা ঘটল।

আগে রবিবার অর্ধশত যাত্রী নিয়ে লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটে। গত রবিবার রাত ১২টায় পাঁচ নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল ২০ জন। এছাড়া নিখোঁজ ছিলেন অন্তত ২৯ জন। বিআইডব্লিউটিএর ১৮ ঘণ্টা ধরে চলা উদ্ধার অভিযান শেষে গতকাল সোমবার আরও ২৩ জনের মরদেহ পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে মোট ২৮ টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক বলেন, ডুবে যাওয়া লঞ্চটিতে অর্ধশত যাত্রী ছিলেন। গতকাল ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। লঞ্চটি উদ্ধারের পর আরও ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট ২৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।