নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : আগামীকাল ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে এক সপ্তাহের ‘লকডাউন’। দেশে ফের করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
জানা গেছে , লকডাউন চলাকালে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কেউ ঘরের বাইরে বের হতে পারবেন না। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনী। এ সময়কালে অভ্যন্তরীন রুটে বিমান চলাচল বন্ধ থাকবে; বন্ধ থাকবে বাস, ট্রেন ও লঞ্চসহ সব গণপরিবহন; বন্ধ থাকবে শপিংমল, দোকানপাট। শুধু জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, কাঁচাবাজার ও শিল্পকারখানা খোলা থাকবে সীমিত পরিসরে, স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করে। এ ছাড়া সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি অফিসে আজ রবিবার থেকে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারি উপস্থিত থাকতে পারবেন। আর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও প্রয়োজন সাপেক্ষে খুবই সীমিত পরিসরে খোলা রাখা যাবে।
লকডাউন চলাকালে দেশের ব্যাংকখাত কীভাবে চলবে, সে বিষয়ে গতকাল কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আজ রবিবার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে গতকাল শনিবার বিকাল ৪টায় জুম অ্যাপসের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টাব্যাপ্তির বৈঠকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দুই সপ্তাহের লকডাউন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। পরে সর্বসম্মতিক্রমে আপাতত এক সপ্তাহের লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গতকাল সচিবদের বৈঠক থেকে করোনা রোগীদের জন্য একটি ফিল্ড হাসপাতাল করার প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আর্মি স্টেডিয়াম অথবা ঢাকা কলেজ প্রাঙ্গণে এ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। বৈঠকে লকডাউনের ধরন কেমন হবে, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আজ রবিবার লকডাউনের বিস্তারিত প্রজ্ঞাপন জারি করার কথা রয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের একান্ত সচিব মাহমুদ ইবনে কাসেম গণমাধ্যমকে জানান, জুম বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসসহ সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব এবং সচিবরা অংশ নিয়েছেন। এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি, তিন বাহিনীর প্রতিনিধি, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিজিবি মহাপরিচালক, আনসারের মহাপরিচালকসহ চার গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। বৈঠকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দুই সপ্তাহের লকডাউন দেওয়ার প্রস্তাব করা হলেও সর্বসম্মতিক্রমে এক সপ্তাহের লকডাউন সমর্থন করা হয়। এ সংক্রান্ত সার-সংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে গতকাল সন্ধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিলেই লকডাউন বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হবে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, করোনা মোকাবিলায় এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় চলাচল কঠোরভাবে সীমিত করা হচ্ছে। জরুরি সেবা (বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন, ইন্টারনেট প্রভৃতি) লকডাউনের আওতার বাইরে থাকবে। এ ছাড়া কৃষিপণ্য, সার, কীটনাশক, জ্বালানি, সংবাদপত্র, খাদ্য, শিল্পপণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জামাদি, জরুরি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন এবং কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান ও হাসপাতাল লকডাউনের মধ্যে পড়বে না।
এর আগে গতকাল জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এক ভিডিওবার্তায় জানিয়েছিলেন, সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দু-একদিনের মধ্যেই এক সপ্তাহের লকডাউন দেওয়া হবে। এ সময়ে জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানা স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিফটিং (পালা করে) ভিত্তিতে চলবে।
একই দিন এরও আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরই প্রথম গণমাধ্যমকে জানান যে, ‘লকডাউন’ দিতে যাচ্ছে সরকার।
* বন্ধ থাকবে – বাস, ট্রেন ও লঞ্চসহ সব গণপরিবহন, শপিংমল, দোকানপাট
* খোলা থাকবে – জরুরি সেবা, ব্যাংক, শেয়ারবাজার, কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল ও শিল্পকারখানা। এ ছাড়া কৃষিপণ্য, সার, কীটনাশক, জ্বালানি, সংবাদপত্র, খাদ্য, শিল্পপণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম, জরুরি
* সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বাইরে বের হলে আইনি ব্যবস্থা
