স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নশীল বাংলাদেশ। সবকিছুতেই বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অগ্রনী অবদান। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বিশ্বে প্রশংসিত। আরো একটি বিষয়ে এই সরকারকে সর্তক এবং সচেতন থাকা উচিত বলে আমি মনে করি। কোন বিষয়ে ধৈর্য্য ধারন। পরিস্থিতি সামালে জানমালের সর্ব্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
দুই দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশে মৃত্যুর মিছিল। একদিকে রাজশাহীতে বেপরোয়া সড়ক দূর্ঘটনায় ১৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে হাটহাজারী ও ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়ায় পুলিশ, বিজিবি এবং বিক্ষুব্ধ জনতার সংঘর্ষে নিহত হয়েছে ৯ জন। আহত শতাধিক। আহতদের মাঝে জনতার পাশিপাশি পুলিশ সদস্যও রয়েছে।
সরকারি যন্ত্র ও জনতা সবার মাঝে ধৈর্য্যচুত্যির লক্ষণ স্পষ্ট। হুঙ্কার পাল্টা হুঙ্কার চলছে। ধর্মভিত্তিক দল হেফাজতে ইসলাম রাজপথে সরকারের মুখোমুখি। হরতাল ডেকেছে হেফাজত ইসলাম। শনিবার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, ‘হরতাল করতে দেয়া হবে না।’ অপরদিকে হরতালে বাধা দিলে লাগাতার কর্মসূচী দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হক।
ধৈর্য্য ধারনের ক্ষেত্রে অবশ্য সরকারকেই অগ্রনী ভুমিকা রাখতে হবে। উগ্রবাদী মানুষটিও এ দেশের নাগরিক। আন্দোলনকারীদের উপর নির্বিচার গুলি কোন সমাধান না। গত দুইদিনে নিহত মানুষ হতে পারে যারা গুলি করছেন তাদেরই কারো না কারো আত্মীয় বা সন্তান। এখানে উগ্রবাদী নিরস্ত্র জনতার প্রতিপক্ষ স্বশস্ত্র পুলিশ।
অধৈর্য্য হলে এরকম মৃত্যুর ঘটনায় সরকারের সকল অর্জন ধুলিস্যাত হতে পারে। স্বাধীনতাবিরোধী চক্র এখনো সক্রিয়। ষড়যন্ত্রকারীগণ চায় সরকার অধৈর্য্য হোক। পরিকল্পিত উন্নয়ন হচ্ছে এবং মানুষের জীবন মান উন্নত। অধৈর্য্য হলে পরিকল্পনায় ছেদ পরবে। অধৈর্য্য হলে মনসংযোগ নষ্ট হয়। বঙ্গবন্ধু কন্যা ভাল করছেন। স্বাধীনতাবিরোধীদের চোখ টাটায়। তারা ঘাপটি মেরে আছে। যে কোন মূল্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ খুঁজছে।
যে ঘটনা নিয়ে এত তোলকালাম সেই মোদির দেশে ইসলাম শিক্ষার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ দারুল উলুম দেওবন্দ অবস্থিত। হেফাজতের কর্মীরা কি আর সেখানে যাবে না। এখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশে ফিরে যদি বলে বসেন, হেফাজতে ইসলাম তার বাংলাদেশ সফরে বিরোধ করেছে! হেফাজতের কোন কর্মী ভারতের দেওবন্দে পড়ালেখা করতে পারবে না। আসা করি তিনি তা করবেন না।
তবে হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের আরো সংযমি হওয়া কর্তব্য। নিরপরাধ হেফাজত কর্মীদের সাথে মিশে দুষ্কৃতিকারীগণ রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ড করার সুযোগ নিচ্ছে। ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ায় এদের তান্ডবে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংশ হয়েছে। শনিবার বিকেলে গণমাধ্যমে প্রচারিত মাওলানা মামুনুল হকের বক্তব্য চরম উসকানীমূলক। তিনি বলতে পারেন না, যুদ্ধ করবো। আমার প্রশ্ন তিনি কার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন। তিনি রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের জন্য যুদ্ধ করতে চান ? মাননীয় মামুনুল হক আপনি শান্ত হোন। আপনি সুবক্তা। আপনার সুললিত আহ্বানে সমাজের বিপথগামী যুবক সুপথে আসতে পারে। আবার হুংকারে ঝড়তে পারে এমন তাজা প্রাণ। যেভাবে গত দুইদিনে ৯ জন প্রাণ দিয়েছে। আপনাদের ভাষায় শহীদ হয়েছে। ওইসব নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। সেই সাথে প্রত্যাসা আর যেন কোন তাজা প্রাণ এভাবে অকালে না ঝড়ে। আমাদের সকলকে আল্লাহ ধৈর্য্যধারনের ক্ষমতা দিন।
