×

ছিনতাই হওয়া ১৬টি স্বর্ণবার উদ্ধার করেছে আরএমপি পুলিশ- আটক ১

ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী : রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) ১৬টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে। একই পরিবারের ছোট ভাই জিতেন ধরের পূর্ব পরিকল্পনাতেই বড় ভাই দ্বিজেনর ধরের ১৭ টি সোনার বার পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই করে। ১৭ টি বার (১৭০ ভরি) র্স্বণের মূল্য প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ ৭১ হাজার টাকা। ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরা ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে আরএমপি পুলিশের হাতে ধরা পড়ে জিতেন। এই ঘটানার সাথে জড়িতদের এবং পুলিশের হ্যান্ডকাপ উদ্ধারের প্রচেষ্টা অব্যগত আছে।

এই ঘটনার কারনে বোয়ালিয়া মডেল থানায় ৬ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলার আসামীরা হলো দ্বিজেনের ভাই জিতেন ধর (৪৮), প্রতিবেশী মিজানুর রহমান ওরফে মিজান (৩৫), মৃদুল (৩৪) ও তাদের অজ্ঞাতনামা আরো ২জন। ছিনতাইয়ের ঘটনার মূল হোতা জেলার পুঠিয়া থানার শিবচৌকি উত্তরপাড়া এলাকার দ্বীনেশ ধরের ছেলে জিতেন ধর (৪৮)।

শনিবার দুপুরে আরএমপি সদর দপ্তরের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান আরএমপি কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক। তিনি বলেন, মামলার বাদী ফেনী সদর উপজেলার মাস্টারপাড়া গ্রামের দ্বীনেশ ধরের ছেলে দ্বিজেন ধর (৫০) ও তার মেজ ভাই ঘটনার মূল হোতা জিতেন ধর বোয়ালিয়া থানায় গিয়ে জানান, প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি ও হ্যান্ডকাপ দেখিয়ে তাদের কাছে থাকা ১৭টি র্স্বণের বার ছিনিয়ে নেয়। দ্বিজেন ধর ফেনী জেলার নুসরাত জুয়েলার্স এর মালিক সুমনের কাছ থেকে ১৫টি র্স্বণের বার এবং হীরা জুয়েলার্স।

মালিক মাবুলের কাছ থেকে ২টি নিয়ে মোট ১৭ টি সোনার বার বাকিতে কিনে নিয়ে আসেন। ২১ ডিসেম্বর সকালে প্রথমে বাসে করে রাজশাহী পুঠিয়ায় নেমে তার মেজ ভাই জিতেন ধরের বাড়িতে যান। সোনার বারগুলো সাহেব বাজার সোনাপট্টি “লাইলা জুয়েলার্স” এর মালিক মানিকের বিক্রির কথা ছিল। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দ্বিজেনর ও তার মেজ ভাই জিতেন পুঠিয়া থেকে সোনাগুলো নিয়ে বাস যোগে সকাল ৮.৩০টার সময় নগরীর ভদ্রা মোড়ে পৌঁছে। পরে তারা ২ ভাই ভদ্রা মোড় থেকে পায়ে হেঁটে যায়। ওই সময় ২ মোটরসাইকেলে করে অজ্ঞাতনামা ৪ জন “প্রশাসনের লোক” পরিচয় দেয়। এবং বাদীর মেজ ভাইয়ের কাছে থাকা সোনার বারের ব্যাগটি জোরপূর্বক কেড়ে নেয় এবং দ্বিজেন ও জিতেনকে হুমকি প্রদান করে। পরে দ্বিজেন নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হয়।

গত ২৫ তারিখ ভোরে বোয়ালিয়া থানার এসি ফারজিনা উদ্ধার হওয়া সোনার বার, নাসরিনের নের্তৃত্বে দ্বিজেনের মেজ ভাই জিতেন ধরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে জিতেন ধর স্বীকার করে যে তার বাড়িতে স্বর্ণেও বার আছে। তার তথ্যের ভিত্তিতে ১৬টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। বাকি একটি সোনার বার তিনি নাটোর জেলার সদর থানাধীন লালবাজার বাহাদুর শাহ মার্কেট “বিনয় জুয়েলারী ও জুয়েলারী স্টোর” নামক একটি স্বর্ণের দোকানে ৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকায় বিক্রি করে। জিতেন ধর তার প্রতিবেশী মিজানুর রহমান ওরফে মিজানের সাথে যোগসাজোশ করে সোনার বার ছিনতাইয়ের পূর্ব পরিকল্পনা করে। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, আরএমপির বোয়ালিয়া জোনের ডিসি সাজিদ হোসেন, উ-পলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস ও এসি বোয়ালিয়া ফারজিনা নাসরিন।