×

শ্রমিকদের মানবাধিকার : বর্তমান বাস্তবতা

আ.স.ম জাকারিয়া : মানবাধিকার একটি সামাজিক প্রত্যয়। সমাজ বদ্ধ জীব হিসেবে আত্ম বিকাশের জন্য মানুষের প্রয়োজন কতকগুলো সুযোগ সুবিধা। মানুষ হিসেবে ব্যক্তির ন্যায়সঙ্গত অধিকার গুলোকেই মানবাধিকার বলে। ব্যাপক অর্থে জাতি, ধর্ম, বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে দেশে দেশে, কালে-কালে মানুষের যে মৌলিক অধিকার সমূহ সর্বজনীন স্বীকৃতি লাভ করেছে তাই মানবাধিকার।

মানুষের মর্যাদার স্বীকৃতি, অস্তিত্ব সংরক্ষণ ও বিকাশ লাভের জন্য অতীত কাল থেকে সমাজে নানা রকম নীতি নির্দেশনা ও কর্মতৎপরতা লক্ষ করা যায়। আইনগত বিধি ব্যবস্থার আওতায় মানুষের অধিকার রক্ষায় ব্যাপক ভিত্তিক উদ্যোগ দেখা দিলে মানবাধিকার প্রত্যয়টি একটি সুসংহত ধারণা কাঠামোতে উপস্থাপিত হয়।

বিশ্বময় সকল জাতির সাধারণ প্রচেষ্টা বিবেচনায় ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা গৃহিত হয় এ থেকেই মানবাধিকার একটি তাৎপর্য পূর্ণ ধারণা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। মানবাধিকার ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশের উপযোগি সে সব সুযোগ সুবিধা যা সমাজ বা রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বা সংরক্ষিত।

মানবাধিকার হলো লিঙ্গ, ভাষা বা ধর্মের কারণে পার্থক্য না করে সমাজের সকলের সমান অধিকার লাভের সুযোগ এবং সামাজিক পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে সকলের দায়িত্ব পালনের সমতা।


১৯৪৮ সালে সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষনার বহু পূর্ব থেকেই ইসলাম ধর্ম প্রথম সুনির্দিষ্ট ভাবে মানুষের কতিপয় মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি প্রদান করেছে।


সপ্তম শতকে মদিনার বহুধর্ম ভিত্তিক সমাজের পেক্ষাপটে হযরত মোহাম্মদ (সা) কর্তৃক প্রণীত ‘‘মদিনার সনদ’’ মদিনার সকল নাগরিকের সম-অধিকার এর এক অনন্য ঐতিহাসিক দলিল।


১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর ফ্রান্সের প্যারি নগরীতে জাতি সংঘের সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা গৃহীত হলে, বিশ্বব্যাপী মানবাধিকারের প্রাতিষ্ঠানিক ভিক্তিভুমি রচিত হয়। সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষিত হওয়ার পর থেকে মানবাধিকার কার্যকরীকরণ , বাস্তবায়ন, সংরক্ষণ, বিকাশ ও উন্নয়নে জাতি সংঘ সচেষ্ট রয়েছে।


মানুষের অধিকার ধর্ম, দর্শন কিংবা আইন শাস্ত্রে যে ভাবেই ব্যাখ্যাত হোক না কেন মানবাধিকার ধারণার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো মানুষ এবং মানুষই এর যাবতীয় সুবিধা ভোগকারী । মানুষের জীবনের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য ভাবে জড়িত আছে তার চাওয়া, পাওয়া, সুখ সমৃদ্ধির নানা বিষয়।

বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন ভাবে মানবাধিকার লঙ্গিত হচ্ছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সকল ক্ষেত্রে বঞ্চিত হচ্ছে মানুষ, তার অধিকার থেকে।


আমি সকল শ্রেণি পেশার মানুষের অধিকার নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনা করতে নয় বরং আমার লেখার মূল প্রতিপাদ্য এদেশে শ্রমিকদের মানবাধিকার প্রসংগ।


রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠান ও নিয়োগকারীর নিকট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এবং জাতীয় ঘোষণাও আইন দ্বারা স্বীকৃত শ্রমিকদের প্রাপ্যই হচ্ছে শ্রমিক অধিকার।


১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ ঘোষিত ‘‘সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা এবং বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংস্থা আই, এল. ও ঘোষিত কনভেনশন সমূহ যাকে আন্তর্জাতিক শ্রম মান বলা হয়। সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার ২৩ ও ২৪ ধারা শ্রমজীবী মানুষের মানবাধিকার সমূহকে নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।


শোভন কাজ, নারী-পুরুষ সমতা, সামাজিক নিরাপত্তা, শিশু শ্রম নিরসন, বৈষম্যহীন ও নিরাপদ কর্মক্ষেত্র , সামাজিক ন্যায় বিচার, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন, স্বাধীন ট্রেড ইউনিয়ন গঠন ও যৌথ দর কষাকষির অধিকার। শ্রমিকদের মানবাধিকার।


সভ্যতার কোন চাকাই সচল হয় না শ্রমজীবীর হাতের স্পর্শ ছাড়া। যারা এ সভ্যতার
বিনির্মানের কারিগর তাদের উন্নতি ও নিঃসন্দেহে অপরিহার্য। কিন্তু তাদের জীবনমানের কতটুকু উন্নতি হচ্ছে তা ভেবে দেখা দরকার। কাগজে, কলমে অনেক অধিকার দেখা যায়। বাস্তবে তা কতটুকু উল্লেখিত বিষয় গুলো বিশ্লেষণ করলেই শ্রমজীবীর মানবাধিকার বিষয় সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। শোভন কাজ। কাজ পাওয়া এবং কাজের বিনিময়ে পরিবার পরিজন নিয়ে ভালভাবে জীবন যাপন করার মত মজুরি পাওয়া প্রত্যেক শ্রমিকের মানবাধিকার ।


বাস্তবতা ভিন্ন। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় শ্রমিকরা তা কতটুকু পাচ্ছে, যে মজুরি বাংলাদেশের শ্রমিকরা পায়, তা দিয়ে নিজে বাসা ভাড়া সহ অন্যান্য খরচ দিয়ে কোন রকম ভাবে বেঁচে থাকা কষ্টসাধ্য। পরিবার পরিজন নিয়ে ভালভাবে জীবন যাপন তো দূরের কথা।


বর্তমান বাংলাদেশে গার্মেন্টস সহ সকল শ্রেণির শিল্প কারখানার শ্রমিকদের যে বেতন ভাতা তাতে ভালোভাবে জীবন যাপন করার মত মজুরি কথার কথা মাত্র। সরকারি ও মাল্টি ন্যাশনাল কারখানা সমূহের শ্রমিকরা এর ব্যতিক্রম।


এর পরও কথা থাকে যে, একটি কাজ পেলেই হয় না প্রয়োজন উপযুক্ত কাজ। যে কাজে চাকরীর নিরাপত্তা ও কল্যাণ, নির্দিষ্ট কর্ম ঘন্টা, ন্যায্য মজুরি, ছুটি ও বিশ্রাম, নিরাপদ কর্ম পরিবেশ ইত্যাদি থাকে তাকেই এ কথায় বলা হয়’ ‘‘শোভন কাজ’’।


উল্লেখিত বিষয়টির দিকে লক্ষ্য করলে বুঝা যায়, বাংলাদেশে এ বিষয়গুলো কতটুকু আছে। চাকুরীর নিরাপত্তা নাই বললেই চলে, মালিক বিভিন্ন অজুহাতে শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করে। স্থায়ী শ্রমিক এখন নাই বললেই চলে। আইনের মারপ্যাচে পেলে সুয়োগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে। বেশির ভাগ কারখানায় নিয়োগ পত্র নাই, পরিচয় পত্র নাই। বাংলাদেশে বিগত দশ বছরের ঘটনা প্রবাহ দেখলে পরিষ্কার বুঝা যায়,
বর্তমানে শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি।


১৯৯০ সালের মিরপুর সারাকা গার্মেন্টস অগ্নিকান্ড নিহত ৩২। ২০০৪ সালে অগ্নি ও পদ দলিত হয়ে ৪টি ঘটনায় নিহত ৩২। ২০০৫ সালে সাভার বাইপালে স্প্রেকটাম ধবংস স্তুপের নীচে মারা যায় ৮৫ শ্রমিক।

২০০৬ সালে একই ধরনের ঘটনা তেজগাঁও ফিনিক্স গার্মেন্টেসে ২১ জন মারা যায়। ২০১০ সালে আশুলিয়া হামিম গ্রুপে নিহত হন ২৯ জন। ২০১২ সালে আশুলিয়া তাজরিন গার্মেন্টস ১১২ জন নিহত
হন। ২০১৩ সালে সাভার রানা প্লাজায় নিহত ১১/১২শ। তাছাড়া পুবাইল টায়ার কারখানা এবং কালিয়াকৈর এবং কোনাবাড়িতে বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহ সহ সারা বাংলাদেশের ঘটনা প্রবাহ চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, বর্তমান বাংলাদেশের শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের অবস্থা।


নির্দিষ্ট কর্ম ঘন্টা এ বিষয়টি অনেক শিল্প কারখানায় অনুপস্থিত । অনেক অত্যাচার অবিচার অবশেষে রক্ত আর জীবনের বিনিময়ে পাওয়া নির্দিষ্ট কর্ম ঘন্টার দাবী প্রতিষ্ঠিত।


বর্তমানে প্রতিটি শিল্প কারখানায় নির্দিষ্ট কর্মঘন্টা নাই। নিচে ১২ বার ঘন্টা। অতিরিক্ত কর্মঘন্টার জন্য ওভার টাইম বলে যে কথা, তা অনেক কারখানায় নাই।


বাংলাদেশের শ্রম আইনে ধারা ১০০ তে উল্লেখ আছে, কোন প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিক কোনো প্রতিষ্ঠানে সাধারণত: দৈনিক ৮ ঘন্টার অধিক সময় কাজ করবেন না বা তাকে দিয়ে করানো যাবে না। তবে, শর্ত থাকবে যে, আইনের বিধান সাপেক্ষে সেই প্রতিষ্ঠানে উক্তরূপ কোনো শ্রমিক আহার ও বিশ্রাম বিরতি সহ (১ ঘন্টা) দৈনিক ১০ ঘন্টা পর্যন্ত ও কাজ করতে পারবেন। ধারা ১০২ সাপ্তাহিক কর্মঘন্টা সম্পর্কে বলা হয়েছে যাহা ৪৮ ঘন্টার অধিক নয়। বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টরে এক্ষেত্রে চরম ভাবে শ্রমিকের অধিকার লংঘিত হয়। বলা যায় এক ধরণের অরাজকতা।


ছুটি ও বিশ্রাম শ্রমিকদের ভাগ্য খুব কমই জোটে। সাপ্তাহিক ছুটি বর্তমান গার্মেন্টস শ্রমিকদের ভাগ্য জোটে না। কিছু কিছু কারখানায় যা পাওয়া যায় তাও আমার স্ব- বেতনে নয়। বেশির ভাগ কারখানায় শিপমেন্টের নামে ছুটি হয় না। অধিক সময় ব্যাপী কাজ হয়। যা শ্রমিকদের অধিকার লংঘন। শ্রম আইনের পরিপন্থী।


বিশ্রাম তাদের জীবনে আসে, জীবন দিয়ে। এ বাস্তবতা সবার জানা। বৈষম্যহীন কর্মক্ষেত্র এদেশে অনুপস্থিত। নারী পুরুষের বৈষম্য এদেশে চিরাচরিত। কর্মক্ষেত্রে বেতন ৈেবষম্য জেন্ডার বৈষম্য রয়েছে। নারীরা দুর্বল তারা পুরুষের সমকক্ষ নয়।

এটা আমাদের সামাজিক বাস্তবতা, ধর্মীয় ভাবে নারী পুরুষের বৈষম্য বিদ্যমান। সম- অধিকার তো প্রশ্নই নাই।

নারী ও পুরুষষেরা সমতা একটি মানবাধিকার । নারী ও পুরুষের সমতা বলতে, সুযোগের সমতা, সমান মর্যাদা, সমান শ্রদ্ধা, সমান মজুরি। আমাদের দেশে এটা আছে কি ?

এক বাক্যে সবাই বলবে নাই। নারী শুধু ভোগের সামগ্রী। সন্তান উৎপাদনের যন্ত্র। এর বাইরে ঘর সামলাবে, স্বামী, সন্তানের দেখাশুনা করবে। এক্ষেত্রে ও মানবাধিকার লংঘিত।


শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রধান যন্ত্র হচ্ছে, তার সংগঠন। সংগঠন করার অধিকার বা সংগঠন করার বাস্তব অবস্থা থাকলে, অন্য অধিকার গুলো নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা, কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের সাথে আলাপ, আলোচনা করা যায়। সংগঠন না থাকলে, কোনটাই করা যায় না।


আমাদের দেশে বর্তমান কল কারখানায় সংগঠন নাই বললেই চলে, বিশেষ করে বেসরকারী প্রতিষ্ঠান সমুহে। মাল্টি ন্যাশনাল এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে কিছু আছে।


এ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভাবে শ্রমজীবীর অধিকার লংঘিত হচ্ছে তাছাড়া অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের নেই কোন শ্রম আইন ও সংগঠন করার অধিকার। এ কথায় বলা যায়, এদেশে বর্তমানে সংগঠন করা কঠিন। অথচ শ্রম আইনের ১৭৬ ধারায় সংগঠন করার অধিকার দেয়া আছে। আই, এল ও কনভেশন ৮৭ ও ৯৭ এ বর্ণিত আছে।


দেশের শিল্প মালিকরা সংগঠন করতে দিতে নারাজ। কোন শ্রমিক, কর্মচারী সংগঠন করতে চাইলে, মালিক তাদের বিভিন্ন অযুহাতে চাকুরিচ্যুত করে। পোষা গুন্ডা, মাস্তান বাহিনী দ্বারা তাদের শায়েস্তা করার চেষ্টা করে। এমন কি এলাকা ছাড়া করায়। অনেক ক্ষেত্রে মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশে দিয়ে দেয়। রেজি: অব ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকতা যাদের ক্ষমতা সংগঠনের রেজি: দেয়ার, তারাও আবার আইনের মার প্যাচে আটকে দেয়।


অনেক সময় মালিক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে স্বার্থ হাসিল করে, শ্রমিকদের ক্ষতি করে।


পাকিস্তানী শাসনামলে ও ট্রেড ইউনিয়ন করা খুবই কষ্টসাধ্য ছিল বটে কিন্তু আইনেরএতো মারপ্যাচ ও অফিসারদের এতো কারসাজি ছিল না। যেখানে সংগঠন করার অধিকার নেই। সেখানে অন্য অধিকার পাওয়ার সুযোগ কোথায় ? কারণ শ্রমিকদের সংগঠন করার অধিকার থাকলে অন্য সুযোগ গুলো নিয়ে দর কষাকষি করা যায়। অথচ সংগঠন করা এখন খুবই কষ্টসাধ্য কাজ।


তাছাড়া মাতৃত্বকালীন ছুটি, নিরাপত্তা, বৈষম্যসহ যতগুলো মানবাধিকার শ্রমিকদের আছে, এদেশে শ্রমিকদের ক্ষেত্রে কাগজে, কলমে। বাস্তবে খুবই সামান্যই।


যেখানে নিরাপত্তা নাই। নেই স্বাভাবিক বেঁচে থাকার গ্যারান্টি। নেই সংগঠন করার অধিকার। দেয়ালে নিচে চাপা পড়ে চিৎকার করে বলতে হয়, বাঁচতে চাই। সেখানে মানবাধিকার কোথায় ?


বাংলাদেশের মালিকরা মানবাধিকার বলতে বুঝে অভিজাত শ্রেণি, মালিক শ্রেণির মানবাধিকার। শ্রমিক, কৃষক মেহনতি গরিব মানুষের মানবাধিকার আবার কী ? তারা খাটবে, মজুরি পাবে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা তারাও এ ব্যাপারে সক্রিয় নয়। আইনের সঠিক প্রয়োগে আন্তরিক নয়। ফলে, শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার শুধু কাগজে কলমে।

এ অবস্থার পরিবর্তন দরকার। শ্রমিকদের মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্রকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। শ্রম আইন, আই. এল ও কনভেনশন এবং মানবাধিকার যা আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত, এর যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।


বেসরকারি মালিকদের উৎপাদনের স্বার্থে, শান্তি শৃংখলার স্বার্থে আইনে স্বীকৃত অধিকার বাস্তবায়নে আন্তরিক হতে হবে। আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক গৃহিত পদক্ষেপ সমূহ রাষ্ট্রীয় ভাবে কার্যকর করার সুযোগ দিতে হবে এবং আইনের অপ-প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে। তবেই শ্রমিক শ্রেণি, অন্যান্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই সংগ্রাম করতে পারবে।


অন্যথায় সমস্ত মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার নামে মাত্র থাকবে। শোষকের শোষণ যন্ত্র
সবল থাকবে। আর শ্রমিক শ্রেণি হবে শোষিত, বঞ্চিত। মানবাধিকার নীরবে নিভূত্যে
কাঁদবে !

লেখক : শিক্ষক, শ্রমিক নেতা ও সাংস্কৃতিককর্মী
মোবা: ০১৯৩২-৩৯৪৭২১